মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে অস্ত্র বহনের বিষয়ে ইশরাক হোসেন

কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্য সামগ্রিক প্রেক্ষাপটকে মূল্যায়ন করে না

বিবৃতিতে একাধিক গণমাধ্যমের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, কয়েকটি গণমাধ্যম অতিউৎসাহী হয়ে খণ্ডিত তথ্য ও ফটোকার্ডের মাধ্যমে অপতথ্য ও বিকৃত সংবাদ পরিবেশন করেছে

মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে ব্যক্তিগত লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ঘটনায় ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, একটি স্পর্শকাতর ঘটনার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্যকে কেন্দ্র করে প্রচারিত ভিডিও, ফটোকার্ড ও খণ্ডিত শিরোনাম সামগ্রিক প্রেক্ষাপটকে মূল্যায়ন করে না।

আজ এক বিবৃতিতে তিনি এ ব্যাখ্যা দেন। গতকাল অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ওই অভিযানের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়।

বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় অধিবাসীদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়ে আসছেন তিনি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে এলাকাটি মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়।

গত জুনে মাদক-সংক্রান্ত এক সহিংসতায় তিনজন নিরীহ নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা করেন। জনবলসংকট দূর করা এবং মাদকের আস্তানার কাছাকাছি স্থানে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট থানাকে আধাসরকারি পত্র (ডিও লেটার) দিলেও তা এখনো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সর্বশেষ পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে একটি সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই গতকাল তিনি ওই এলাকায় যান।

আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র প্রদর্শনের ব্যাখ্যা

প্রতিমন্ত্রী জানান, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে তার নিরাপত্তাঝুঁকি এবং মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে ছাদ থেকে আকস্মিক গুলিবর্ষণের আশঙ্কার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী আস্তানার নিকট পৌঁছালে ৩০-৩৫ জন আইনলঙ্ঘনকারী ব্যক্তি অতর্কিতে হইচই করে আমাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে ধেয়ে আসে।

‘এমতাবস্থায় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তায় আমি এবং আমার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি। সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নস্যাৎ হওয়ার পরপরই অস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয়। উক্ত আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং এর প্রদর্শনী কেবলই আত্মরক্ষার স্বার্থে আইনি কাঠামোর মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।’

পুলিশের উপস্থিতিতে যৌথ অভিযান, আটক ৬

বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি ও সহায়তায় সন্দেহভাজন আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ সময় চার-পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়। আস্তানাগুলো থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, বেশ কিছু দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

অপরাধের সঙ্গে হাতেনাতে জড়িত ছয়জন মাদক কারবারিকে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন নিয়ে অভিযোগ

বিবৃতিতে একাধিক গণমাধ্যমের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, কয়েকটি গণমাধ্যম অতিউৎসাহী হয়ে খণ্ডিত তথ্য ও ফটোকার্ডের মাধ্যমে অপতথ্য ও বিকৃত সংবাদ পরিবেশন করেছে।

“বিকৃত, মিথ্যা এবং সম্পূর্ণ বানোয়াট এসব সংবাদ মূলত অভিযানের সাফল্য, পুলিশের ভূমিকা, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং ৬ জন অপরাধী আটকের ইতিবাচক দিকটি সুপরিকল্পিতভাবে সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেছে। এর মাধ্যমে তারা সরকার ও জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা কেবল ‘অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রীর অভিযান’—এই খণ্ডিত দৃশ্যটিকে চটকদার শিরোনামে প্রচার করেছে, যা স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিপন্থী।”

প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমগুলোকে যেকোনো সংবাদের সত্যতা যাচাই করে পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপটসহ তা প্রকাশের আহ্বান জানান।

আরও