বর্তমান বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে শান্তিময় ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা অর্জনের ওপর জোর দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
আজ সন্ধ্যায় নভোথিয়েটারে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।
উপদেষ্টা আরো বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ নীতির আলোকে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে গবেষণা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের বিকল্প নেই। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশের সাপ্লাই চেইন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিজ্ঞান চর্চা ও শিল্প ক্ষেত্রে নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি।
বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ওমান, ইউরোপ, এশিয়া ও ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের সাথে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি একটি সংযুক্ত বিশ্ব। বর্তমানে আমরা নিত্যনতুন ভূ-অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও ব্যাঘাতের মুখোমুখি হচ্ছি। এ বিশ্বব্যবস্থায় টিকে থাকতে হলে জাতীয় পর্যায়ে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে বলেও জানান ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
উদ্ভাবন ও গবেষণায় অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, আমাদের নীতিগত ও করসংক্রান্ত সুবিধা দেয়ার পাশাপাশি নতুন উদ্ভাবনে জোর দিতে হবে। অতীতে তৈরি পোশাক খাতে ঋণখেলাপির ঝুঁকি এড়াতে "ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি" বা "বন্ডেড ওয়্যারহাউজের" মতো উদ্ভাবনী ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। ঠিক একইভাবে বাংলাদেশে গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ফান্ডিং গ্যারান্টি সিস্টেম এবং অর্থ বিতরণের স্পষ্ট প্রক্রিয়া নির্ধারণ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সাইন্স ফাউন্ডেশন কিংবা যুক্তরাজ্যে সাতটি রিসার্চ কাউন্সিলের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মডেল থেকে ধারণা নিয়ে দেশের উপযোগী ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। যেখানে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার মাধ্যমে গবেষণা ফান্ড বিতরণ করা সম্ভব হয়।
তিনি আরো জানান, বিজ্ঞান চর্চা দলদাস হয়ে করা সম্ভব নয়। গত ১৫ বছরে এক ধরণের স্বজনপ্রীতি ও পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে দলীয় পরিচয় প্রধান হয়ে উঠেছিল। আমাদের এ স্বজনপ্রীতির ধারা থেকে বের হতে হবে। অন্য দেশের মডেল হুবহু অনুকরণ না করে বাংলাদেশের সামাজিক ও জাতীয় ধারণক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ গবেষণা কাউন্সিল ও ফান্ড গঠন করতে হবে।