বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে এ হামলা চালানো হয়। এতে আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগ কর্মীদের নির্যাতনে নিহত হন আবরার ফাহাদ। দিনটি স্মরণে গতকাল স্মরণসভার আয়োজন করে তার স্মৃতিতে গঠিত সংসদ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, স্মরণসভায় অংশ নেয়া সবাই ঢাবি শিক্ষার্থী কিনা তা জানতে চান ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এ সময় পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে স্মরণসভার জন্য রাখা অর্ধশতাধিক চেয়ার ভাংচুর করা হয়। স্মরণসভার ব্যানারেও আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাবি শাখার সাহিত্য সম্পাদক জাহিদ আহসান ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নাজিম উদ্দীন আহত হন।
এ বিষয়ে আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক আখতার হোসেন বলেন, ‘পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী স্মরণসভা শুরু করার পর পরই প্রক্টরিয়াল টিমের উপস্থিতিতে আমাদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলায় আমাদের অন্তত ১০ জন আহত ও দুজন গুরুতর আহত হয়েছে। একজন রিকশাচালকেরও মাথা ফেটে গিয়েছে। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, গতকাল হামলায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এমএম মহিন উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব খান, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজিম উদ্দীন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক আল আমিন রহমান, উপদপ্তর সম্পাদক শিমুল খান ও আব্দুর রাহিম, জহুরুল হক হল ছাত্রলীগ সভাপতি কামাল উদ্দীন রানা ও সাধারণ সম্পাদক রুবেল হোসেনসহ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয়, বিশ্ববিদ্যালয় ও হল শাখার কয়েকশ নেতাকর্মী অংশ নেন।
এ বিষয়ে জহুরুল হক হল ছাত্রলীগ সভাপতি কামাল উদ্দীন রানা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘স্মরণসভা যারা আয়োজন করেছিলেন তারা ক্যাম্পাসে বহিরাগত। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। পরিচয় না পেয়ে তাদের প্রতিরোধ করেন। এ ঘটনায় উপস্থিত ছাত্রলীগ কর্মীরা উভয় পক্ষকে থামিয়ে দেন।’