১০১১ সালের স্থাপত্য নিদর্শন

গাইবান্ধার শাহ্ সুলতান গাজী মসজিদ

গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মীরের বাগানের এ শাহ্ সুলতান গাজী জামে মসজিদ। জেলার প্রাচীন আমলের স্থাপত্য নিদর্শনগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার দাড়িয়াপুরের মীরের বাগানে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক শাহ্ সুলতান গাজী মসজিদ। ১০১১ সালে চুন-সুরকির অনন্য গাঁথুনিতে নির্মিত এ প্রাচীন স্থাপত্যে নেই কোনো সিমেন্ট, বালি বা রডের ব্যবহার। ১৯০০ সালে জঙ্গল পরিষ্কার করতে গিয়ে দরবেশ সৈয়দ ওয়াজেদ আলী এ মসজিদ ও মাজারের খোঁজ পান। সে সময় থেকে এখানে পুনরায় নামাজ চালু হয়। এক সহস্রাব্দের প্রাচীন ঐতিহ্য ও নির্মাণশৈলী নিয়ে এটি বর্তমানে জেলার অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।

গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মীরের বাগানের এ শাহ্ সুলতান গাজী জামে মসজিদ। জেলার প্রাচীন আমলের স্থাপত্য নিদর্শনগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

ইতিহাস ও উদ্ধারকাল থেকে জানা যায়, এক সময় এ এলাকায় ঘন বনজঙ্গল ছিল। জঙ্গল পরিষ্কার করতে গিয়ে খুঁজে পাওয়া মসজিদটির দেয়ালে খোদিত লিপি থেকেই এর স্থাপনকাল ১০১১ সাল বলে জানা যায়। পরবর্তী সময়ে ১৯০০ সালে সৈয়দ ওয়াজেদ আলী নামে এক দরবেশ ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে এ মসজিদ ও মাজার খুঁজে বের করেন এবং তা সংস্কার করেন। মূলত তখন থেকেই এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় শুরু হয়।

দেশের অধিকাংশ মসজিদের মতো শাহ্ সুলতান গাজীর মসজিদেও রয়েছে গম্বুজ। এটির গম্বুজের সংখ্যা তিনটি। তবে এর গঠনশৈলীতে রয়েছে শৈল্পিক ছোঁয়া। মাঝের গম্বুজটি অধিক কারুকার্য শোভিত এবং কিছুটা উঁচু। মসজিদের ভেতরের দেয়াল ও গম্বুজগুলোতে আরবি ও উর্দু ভাষায় খোদাই করে বিভিন্ন সুরা লিখে অলংকৃত করা হয়েছে। পুরো নির্মাণ কাজে সিমেন্ট, বালি ও রডের কোনো ব্যবহার নেই; পুরো ভবনটিই চুন-সুরকির চমৎকার গাঁথুনি দিয়ে তৈরি।

মসজিদের পাশেই আজান দেয়ার জন্য রয়েছে দোতলা একটি মিনার, যেখানে ওঠার জন্য আছে চিকন সিঁড়ি। জনশ্রুতি আছে, মাইক আবিষ্কারের আগে এ মিনার থেকেই আজান দেয়া হতো। তবে বর্তমানে মসজিদের ভেতর থেকেই মাইকে আজান দেয়া হয়। স্থান সংকুলান না হওয়ায় সামনে টিনের ছাউনি দিয়ে নামাজের জায়গা বর্ধিত করা হয়েছে। বেশ কয়েকবার সংস্কার করার কারণে মসজিদটি তার আদি সৌন্দর্য কিছুটা হারিয়েছে বলে মনে করেন অনেকে।

মসজিদের পাশেই শাহ্ সুলতান গাজীর মাজার অবস্থিত। পাশাপাশি এখানে আরো দুজন ইসলাম প্রচারক—মীর মশাররফ হোসেন ও শরফ উদ্দিন হোসেনের মাজার রয়েছে। বিভিন্ন ইতিহাস থেকে জানা যায়, তারা সে সময় ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে ইরাক থেকে এখানে এসেছিলেন। সে সময়েই এ মসজিদ নির্মাণ করেন। পরবর্তী সময়ে তারা মারা গেলে এখানেই তাদের মাজার স্থাপন করা হয়। বর্তমানে মসজিদ ও মাজারের নামে মোট ৪৬ শতক জমি রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, এ মসজিদের নির্মাণশৈলীতে অনেকটা অলৌকিকতা রয়েছে। চুন-সুরকির এ দেয়াল এতটাই শক্ত যে পরবর্তী সময়ে সংস্কার করতে গিয়ে এতে সিমেন্ট ও বালি আটকানো যায় না এবং ফুটো করতে গেলে তীব্র ঘর্ষণের সৃষ্টি হয়।

শাহ্ সুলতান গাজী জামে মসজিদের প্রধান খাদেম ক্বারী মো. আলী আশরাফি বলেন,"‘আমার দাদা এ মসজিদ দেখাশোনা করতেন। বংশ পরম্পরায় মসজিদটির ইতিহাস শুনেছি। এখন আমি দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করছি। অন্য যেকোনো মসজিদের চেয়ে এ মসজিদের নির্মাণশৈলী একেবারেই আলাদা।’

আরও