সুতি নদীর তীরঘেঁষা এ সড়কের একাধিক স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। কয়েক দফা মেরামত করার পরও ধস থামানো যাচ্ছে না। নিম্নমানের নির্মাণকাজকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। তবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দাবি, নদীর তীরবর্তী এলাকায় এমন ভাঙন স্বাভাবিক। উপজেলার রাজাবাড়ী বাজার থেকে দমদমা চৌরাস্তা হয়ে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় অভিমুখী আঞ্চলিক সড়কের সুতি নদীসংলগ্ন অংশে এ ধসের ঘটনা ঘটছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দমদমা গ্রামের মসজিদসংলগ্ন এলাকায় সড়কের পাড় বড় অংশজুড়ে দেবে গেছে। কোথাও কোথাও ব্লকসহ পাড় নদীর দিকে হেলে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম্প্রতি বৃষ্টিতে এ ভাঙনের পরিমাণ বেড়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, রাজাবাড়ী বাজার থেকে দমদমা চৌরাস্তা পর্যন্ত ৫ দশমিক ৪০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নকাজের দায়িত্ব পায় যৌথ মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সালাম-দুর্গা এন্টারপ্রাইজ। ২০২১ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৯ কোটি টাকা। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে ২০২৫ সালে কাজ শেষ হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘কাজ শেষ হওয়ার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে কোথাও কোথাও রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। নদীর পাড় রক্ষা করতে বসানো ব্লকও নদীতে ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। নিম্নমানের কাজ না করলে এমন হওয়ার কথা না।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সালাম-দুর্গা এন্টারপ্রাইজের মালিক আব্দুস সালাম খান বলেন, ‘নদীর পাশের সড়কে ভাঙন হতেই পারে। একবার, দুই বা তিনবারও ভাঙতে পারে। আমরা প্রয়োজনীয় মেরামতের ব্যবস্থা করব।’
শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ বলেন, ‘সড়কটির কিছু অংশ মাটি ফেলে নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। নতুন মাটি ফেলা অংশেই ধসে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আমরা ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের নিয়ে ধসে যাওয়া জায়গা পরিদর্শনও করেছি। ঠিকাদার বিল তুলে নিয়ে গেলেও তাদের জামানতের ৯০ লাখ টাকা সংরক্ষিত আছে। শুকনো মৌসুমে এলে প্রয়োজনে ওই জামানতের টাকা দিয়েই সংস্কার করা হবে।’