লক্ষ্মীপুরে স্কুলছাত্র রবিউল ইসলাম শিমুল হত্যা মামলায় ৬ জনকে যাবজ্জীবন দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরো ১ বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯
নভেম্বর) জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন। এ সময়
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চন্দ্রগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তাজুল
ইসলামকে মামলা থেকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা
হলেন,
সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের বশিকপুর গ্রামের মাসুদুর রহমান
ওরফে কালা মাসুদ (৩২), দিঘলী ইউনিয়নের উত্তর জামিরতলী
গ্রামের নুর মোহাম্মদ লিটন (৩৮), গোবিন্দখিল গ্রামের শাহরিয়ার
রাশেদ ওরফে লন্ডনি রাশেদ (৩৩), চন্দ্রগঞ্জ
ইউনিয়নের দেওপাড়া গ্রামের ইলিয়াছ (৩৫), পশ্চিম লতিফপুর
গ্রামের সাদ্দাম (৩১) ও একই এলাকার পশ্চিম লতিফপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন সাদ্দাম
ওরফে বিড়ি সাদ্দাম (৩১)।
আদালতের রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত
করেছেন জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ছয় আসামির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। রায়ের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত ইলিয়াস আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
আদালতের নথি ও
মামলার এজাহার সূত্র জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শিমুল
মামলার বাদী কাজী মামুনুর রশীদ বাবলুর ভাগনে। ২০১৪ সালের ২১ এপ্রিল বাবলু অসুস্থ
হয়ে লক্ষ্মীপুরে একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ওই দিন রাতে তার বাড়িতে হামলায়
চায় মুখোশধারীরা। তখন শিমুল বাধা দিলে
তাকে তুলে নিয়ে দেওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় গুলি
করে হত্যা করে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার ১৪ দিন পর ৫ মে বাবলু বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।