তবে বাস্তবে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, নিয়োগ, পদোন্নতি, কর্মক্ষেত্রে যুক্তিসংগত সুবিধা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হওয়ায় শ্রমবাজারে প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ফলে দেশের একটি সম্ভাবনাময় জনগোষ্ঠী উৎপাদনশীল অর্থনীতির মূলধারার বাইরে রয়ে গেছে।
এ পরিস্থিতিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রণয়ন বা ভাতার পরিমাণ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল ও ভৌত অবকাঠামোর প্রবেশগম্যতা, বিদ্যমান আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও অধিকারকর্মীরা। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বণিক বার্তা কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থান: নীতি থেকে বাস্তবায়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তারা এ মতামত তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ বিজনেস অ্যান্ড ডিজঅ্যাবিলিটি নেটওয়ার্ক (বিবিডিএন), ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি ও বণিক বার্তার যৌথ উদ্যোগে এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। গোলটেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সহকারী সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ বিশেষ সংবাদদাতা মো. বদরুল আলম।
মানবসম্পদ দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলেও তা এখনো যথাযথভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। তিনি বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজ বা রাষ্ট্রের বোঝা নন; বরং তারা দেশের মূল্যবান সম্পদ এবং অনেক ক্ষেত্রেই আলোকবর্তিকার মতো পথ দেখাতে পারেন। তাদের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নয়টি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।’ সরকারি কাঠামো ও বিদ্যমান সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু আইন প্রণয়ন করলেই পরিবর্তন আসবে না; এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক ও মানসিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। বিশেষ করে পরিবারের ভেতরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আড়াল করে রাখার যে সামাজিক ট্যাবু রয়েছে, তা দূর করতে হবে। তবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকার শতভাগ আন্তরিক এবং তাদের জন্য শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে মেধাবী জনগোষ্ঠী যাতে দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য না হয়, সেজন্য দেশেই উপযুক্ত কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
তিনি আরো জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দেশের ১০টি বিভাগীয় পর্যায়ে ‘শিশু স্বর্গ’ নামে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস ও রেসিডেনশিয়াল কেস ম্যানেজমেন্ট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅ্যাবিলিটি (এনডিডি) আক্রান্ত শিশুদের শৈশব থেকেই থেরাপি ও বিশেষ প্রশিক্ষণের আওতায় এনে কর্মক্ষম হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে কার্যকর অবদান রাখতে পারে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন, ‘বর্তমানে মাসে ১ হাজার টাকা করে প্রায় ৩৮ লাখ ব্যক্তি প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতায় ভাতার পরিমাণ ও সুবিধাভোগীর সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ানো সম্ভব নয়।’ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকারভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ডিজিটাল অ্যাকসেসিবিলিটি, দক্ষতা উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয় তুলে ধরেন তিনি। এছাড়া সহায়ক প্রযুক্তি, প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো, উপজেলা পর্যায়ে সেবা কেন্দ্র স্থাপন, পুনর্বাসন এবং সরকারি নিয়োগে অতিরিক্ত সুযোগ নিশ্চিতে সরকারের উদ্যোগ রয়েছে বলেও জানান।
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) অনারারি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ‘প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিতে আইন থাকলেও সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তার কার্যকর বাস্তবায়ন ও মনিটরিং।’ শ্রম অধিদপ্তরের মনিটরিং চেকলিস্টে প্রতিবন্ধী অধিকার-সংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া বেসরকারি খাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক নিয়োগনীতি, কর্মস্থলে প্রয়োজনীয় সুবিধা, প্রতিবন্ধী সংগঠনগুলোর সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তার আলোচনায়। সেই সঙ্গে মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয় এবং সহজলভ্য আইনগত সহায়তা জোরদারেরও পরামর্শ দেন এ আইনজ্ঞ।
আয়োজনে সম্মানিত অতিথি ছিলেন ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রেফাত উল্লাহ খান। তিনি বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং তাদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করা আমাদের কাছে কেবল একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এ ইনক্লুশন আমাদের ডিএনএতে মিশে আছে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বা ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন আমাদের মূল দর্শন। গত ২৫ বছরে আমরা প্রায় ২০ লাখ উদ্যোক্তা তৈরি করতে পেরেছি, যা প্রায় দুই কোটি পরিবারের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এমনকি করোনার সময়ও আমরা এক কোটি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। এ ধারাবাহিকতায় আমরা সেই মানুষদের কাছে পৌঁছতে চাই, যারা এখনো ব্যাংকিং সেবার বাইরে বা অবহেলিত রয়ে গেছেন।’
এসিআই লজিস্টিকসের পরিচালক (অপারেশনস) আবু নাসের বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী বা অটিস্টিক শব্দগুলো ব্যবহার করি না; তাদের বলি “গিফটেড চাইল্ড”। বর্তমানে আমাদের এখানে মোট ১৮১ জন গিফটেড চাইল্ড কর্মরত। তবে আমাদের লক্ষ্য হলো মোট কর্মী বাহিনীর ১০ শতাংশ এ বিশেষ সন্তানদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেয়া। এক হাজারের বেশি আমাদের শোরুম রয়েছে, প্রতিটিতে অন্তত একজন করে এমন কর্মী নিশ্চিত করা।’
বিদ্যমান শ্রম আইনে কর্মস্থলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (স্বাস্থ্য) ডা. নাজমুন নাহার। আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে শ্রম আইনে কিছু বিষয় এখনো অস্পষ্ট, বিশেষ করে কর্মস্থলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য র্যাম্প, লিফট, আলাদা টয়লেট রাখার বিষয়টি বাধ্যতামূলক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রয়োজন। আমাদের সীমাবদ্ধতা হলো আমরা ২০০৬ সালের শ্রম আইনের বাইরে যেতে পারি না। তবে পরিদর্শকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যাতে তারা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও কর্মপরিবেশ নিয়ে আরো সচেতনভাবে কাজ করতে পারেন।’
ব্র্যাকের স্বাস্থ্য কর্মসূচির প্রধান ড. মো. শাহিনুল হক রিপন বলেন, ‘প্রতিবন্ধীদের জন্য সহায়ক টুলস তৈরির ক্ষেত্রে আমরা বর্তমানে আমদানিনির্ভরতায় একটি বড় চ্যালেঞ্জ ফেস করছি। আমরা যে সরঞ্জাম ও কাঁচামাল বিদেশ থেকে আনি, তার শতভাগই আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিকভাবে এর একটি নির্দিষ্ট এইচএস কোড থাকলেও বাংলাদেশে আমদানির সময় সব কম্পোনেন্ট সেই কোডে কভার হয় না। যেমন কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির বিশেষ প্লাস্টিক ম্যাটেরিয়ালকে সাধারণ প্লাস্টিক পণ্য হিসেবে গণ্য করে আমাদের ৭০-৮০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দিতে হচ্ছে। অথচ আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী এ শুল্ক হওয়ার কথা ছিল মাত্র ১২ শতাংশ। এ উচ্চশুল্কের কারণে সেবার খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। যদি শুল্ক কমানো যেত, তবে আমরা এ সেবার ব্যয় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনতে পারতাম।’
গোলটেবিল বৈঠকে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিজনেস অ্যান্ড ডিজঅ্যাবিলিটি নেটওয়ার্কের (বিবিডিএন) পরিচালক (অপারেশনস) আজিজা আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের প্রচলিত শ্রমনীতি, শ্রম বিধিমালা ও শ্রম আইনের সঙ্গে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা-সংক্রান্ত আইনের (আরপিপিডিএ) কিছু দৃশ্যমান গ্যাপ বা অসামঞ্জস্য রয়েছে। আজকের আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো কীভাবে এ দুই নীতির মধ্যে একটি কার্যকর সমন্বয় করা সম্ভব এবং কীভাবে আমাদের শ্রম আইন ও বেসরকারি খাত আরপিপিডি অ্যাক্টকে গ্রহণ করে তাদের পলিসি ও কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। আমরা বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এমন একটি কর্মপরিবেশ চাই, যেখানে তাদের জন্য পৃথক কোনো বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন পড়বে না। বরং ইকুইটি বা সাম্যের জায়গা থেকে আমরা সবাই যেন কাজ করতে পারি, সে লক্ষ্যেই আমাদের এগোতে হবে।’
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সহকারী মহাসচিব অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রচলিত শ্রম আইনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কোনো সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই, যা একটি বড় সীমাবদ্ধতা। আমি প্রস্তাব করছি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও অধিকার আইনের সংজ্ঞাটি শ্রম আইনেও অন্তর্ভুক্ত করা হোক।’
এসপায়ার টু ইনোভেটের (এটুআই) কনসালট্যান্ট (অ্যাকসেসিবিলিটি) ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেন, ‘বর্তমান প্রযুক্তির যুগে প্রতিবন্ধকতা সক্ষমতার বাধা নয়; সবচেয়ে বড় বাধা সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি।’ এক্ষেত্রে তিনি কর্মসংস্থানে সচেতনতার অভাব, শিক্ষা ও দক্ষতার ঘাটতি, ডিজিটাল ও ভৌত অ্যাকসেসিবিলিটির সীমাবদ্ধতা এবং নীতির দুর্বল বাস্তবায়নকে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবেও উল্লেখ করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সাইটসেভার্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থানে উন্নয়ন সহযোগীদের উদ্যোগকে টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে শক্তিশালী মনিটরিং ও সমন্বয় প্রয়োজন।’ তিনি তার বক্তব্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক নিয়োগনীতি, যুক্তিসংগত সুযোগ-সুবিধা, দক্ষতা উন্নয়ন, পুনঃপ্রশিক্ষণ, সহায়ক ব্যবস্থা, পদোন্নতির সুযোগ, প্রতিবন্ধীবান্ধব কর্মপরিবেশ, তথ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষণ এবং গুরুতর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ঋণ, স্টার্টআপ তহবিল ও আয়বর্ধক কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান দয়া নয়, মৌলিক অধিকার এবং উৎপাদনশীল বিনিয়োগ বলে উল্লেখ করেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার (সোশ্যাল প্রটেকশন) ফারজানা রেজা। আলোচনায় তিনি বৈষম্য দূরীকরণ, নিয়োগকর্তাদের সচেতনতা, সহায়ক প্রযুক্তির ব্যবহার, ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন ও শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য নীতিনির্ধারণে কার্যকর ব্যবহারেও গুরুত্ব দেন।
শ্রম অধিদপ্তরের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. তামান্না নাসরিন বলেন, ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য পেশাগত রোগ ও দুর্ঘটনাজনিত প্রতিবন্ধিতা প্রতিরোধ, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা, সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’ তিনি শ্রমকল্যাণ কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রতিরোধ, সুরক্ষা, পুনর্বাসন ও অন্তর্ভুক্তিকে গুরুত্ব দেয়ার ওপর জোর দেন।
সমাপনী বক্তব্যে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান (ইন্টারনাল কমিউনিকেশন ও সিএসআর) শফিক আর ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আমরা কেন সবসময় কেবল “স্পেশাল” বা “গিফটেড চাইল্ড” হিসেবে আলাদাভাবে চিন্তা করি? আমাদের উচিত একে একটি স্বাভাবিক বৈচিত্র্য বা ডাইভার্সিটি হিসেবে গ্রহণ করা। আমাদের সমাজকেও সেভাবে ডাইভার্সিফায়েড করতে হবে, যাতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আলাদা বিশেষ ব্যবস্থার বদলে সবকিছুই তাদের জন্য স্বাভাবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়। এভাবে চিন্তা করলে বিদ্যমান ব্যবধান অনেক কমে আসবে।’