নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেড খুলছে কাল, সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে কমিটি

টানা দুদিন বন্ধ থাকার পর নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডের সব কারখানা চালু হচ্ছে আগামীকাল। তবে পরচুলা তৈরির কারখানা এভারগ্রিন লিমিটেড খুলবে ৬ সেপ্টেম্বর।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শ্রমিক, কারখানা মালিক, বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা), জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সভা শেষে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সভায় শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি মেনে নেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার কারখানা খোলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ইপিজেডে দুই প্লাটুন বিজিবি, পুলিশ ও সেনা মোতায়েন রাখা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে ইপিজেডের মূল ফটক। সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে বেপজার পক্ষ থেকে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির বেশিরভাগই কারখানা মালিকেরা মেনে নিয়েছেন। কাল থেকে সব কারখানা খুলবে। এভারগ্রিন লিমিটেডের সঙ্গে বেপজার কিছু চুক্তিগত প্রক্রিয়া বাকি থাকায় কারখানাটি শনিবার চালু হবে। সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে বেপজার পক্ষ থেকে চার সদস্যের কমিটি করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার ইপিজেডে এভারগ্রিন নামে একটি কারখানা বন্ধ ও ছাঁটাইয়ের ঘটনায় শ্রমিকদের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। এতে হাবিব ইসলাম (২১) নামে এক শ্রমিক নিহত হন। আহত হন পুলিশ, সেনাসদস্যসহ আরো অন্তত ২৪ জন। হাবিব ইসলাম ইকু ইন্টারন্যাশনাল কারখানার কর্মী ছিলেন। তিনি নীলফামারী সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের কাজীরহাট গ্রামের দুলাল উদ্দিনের ছেলে।

কারখানার শ্রমিকরা জানান, ইপিজেডের এভারগ্রিন নামে পরচুলা তৈরির একটি প্রতিষ্ঠান থেকে সম্প্রতি ৫১ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়। এ নিয়ে সেখানে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। এ অবস্থায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা না দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ওই কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ইপিজেডের প্রধান ফটকে এ সংক্রান্ত নোটিস ঝুলিয়ে দেয়া হয়। কাজে যোগ দিতে গিয়ে ওই কারখানার শ্রমিকরা নোটিসটি দেখতে পান। ভেতরে ঢুকতে না পেরে তারা ইপিজেডের সামনের সড়কে অবস্থান নেন। এতে নীলফামারী-সৈয়দপুর সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন এবং তাদের সরিয়ে দিতে যান। তখন উত্তেজিত শ্রমিকরা তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। শ্রমিক হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

এ ঘটনার পর থেকে ইপিজেডে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। আজ সব কারখানা বন্ধ রাখা হয়। মঙ্গলবার রাতে বেপজার নির্বাহী পরিচালক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজকের পরিস্থিতি দেখে কাল কারখানাগুলো খোলা হবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

আরও