আইইইএফএর প্রতিবেদন

বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যান ব্যবহারে ২ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব

আইইইএফএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বাসাবাড়ি শীতল রাখার কাজেই বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার ৫ হাজার ২১২ মেগাওয়াট পর্যন্ত ব্যয় হয়। অথচ দেশে বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত মোট ফ্যানের মধ্যে অত্যন্ত বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ব্রাশলেস ডিরেক্ট কারেন্ট (বিএলডিসি) ফ্যানের হার ২ শতাংশেরও কম।

বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যান ব্যবহার করলে গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশের বিদ্যুতের সর্বোচ্চ (পিক সময়ের) চাহিদা ২ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট পর্যন্ত কমানো সম্ভব বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ)। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক অবকাঠামো খাতে ৪ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগও সাশ্রয় করা যাবে। গতকাল প্রকাশিত এক নতুন গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

আইইইএফএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বাসাবাড়ি শীতল রাখার কাজেই বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার ৫ হাজার ২১২ মেগাওয়াট পর্যন্ত ব্যয় হয়। অথচ দেশে বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত মোট ফ্যানের মধ্যে অত্যন্ত বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ব্রাশলেস ডিরেক্ট কারেন্ট (বিএলডিসি) ফ্যানের হার ২ শতাংশেরও কম।

গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, প্রচলিত ৭০ ওয়াটের তুলনায় ৩৫ ওয়াটের বিএলডিসি ফ্যানে অর্ধেক বিদ্যুৎ খরচ হয়। প্রচলিত ফ্যান বাদ দিয়ে বিএলডিসি ফ্যানের ব্যবহার শুরু করলে বছরে ৬ হাজার ৯১৩ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। এর ফলে বছরে প্রায় ৮ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকার বিদ্যুৎ খরচ বাঁচবে এবং নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য পরিকল্পিত ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূলধনি ব্যয় এড়ানো যাবে।

বাংলাদেশের আমদানিনির্ভর বিদ্যুৎ খাত যখন জাতীয় গ্রিডে তীব্র চাপ ও টানা লোডশেডিংয়ের মতো সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখনই গবেষণার এ ফলাফল সামনে এল। গ্রীষ্মের মাসগুলোতে দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৯ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়।

বাজারে একটি সাধারণ ফ্যানের খুচরা মূল্য যেখানে ২ হাজার টাকার কাছাকাছি, সেখানে একটি বিএলডিসি ফ্যান কিনতে খরচ পড়ে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার ৩০০ টাকা। এ ফ্যানের ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা দূর করতে আইইইএফএ বেশকিছু সুপারিশ করেছে।

আইইইএফএ বলছে, ভারতের সফল এলইডি বাল্ব বিতরণ কর্মসূচির আদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে একযোগে বিপুল পরিমাণ ফ্যান কেনার মডেলে বাংলাদেশেও একটি জাতীয় কর্মসূচি চালু করা উচিত। পাশাপাশি কার্বন ফাইন্যান্স থেকে আসা আয় দিয়ে ভোক্তা পর্যায়ে দামে ভর্তুকি দেয়া এবং মাসিক বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে কিস্তিতে ফ্যানের দাম পরিশোধের সুবিধা যুক্ত করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

জরিপে অংশ নেয়া ৯৬ শতাংশ পরিবারই বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ের বিষয়টি জানার পর সাশ্রয়ী ফ্যান ব্যবহারের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে প্রতিবেদনে এর পেছনে একটি বড় আর্থিক বাধার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি হলো ফ্যান কেনার প্রাথমিক উচ্চমূল্য।

আরও