বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সফলতা আনতে চাইলে মূল্যবোধের অবক্ষয়ের বিষয়টি দেখতে হবে। আমাদের বাচ্চাদের কোনো দোষ দিয়ে লাভ নেই। একাত্তর, নব্বই বা চব্বিশ আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে তারা রক্ত দিয়ে পরিবর্তন এনে দেয়, কিন্তু আমরা পরিবর্তনের ফলাফল আনতে ব্যর্থ হই। বিশ্বাস করি এবার তাৎপর্যপূর্ণ কিছু পরিবর্তন হবে। বাংলাদেশই প্রথম ও নজিরবিহীন যেখানে উপাচার্যরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পালিয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন চাইলে, বৈশ্বিক মানে নিয়ে যেতে চাইলে উপাচার্য নিয়োগের মান ঠিক করতে হবে। মন্ত্রণালয়, ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় অস্পষ্ট। বৈচিত্র্যের নামে আমরা বিভাজন তৈরি করছি প্রতিনিয়ত। জাতির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, সে অভিযোগ থেকে আমরা বের হয়ে আসতে পারিনি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অভ্যুত্থান-উত্তর যে পরিবর্তন ও টেকসই ব্যবস্থা নেয়া দরকার, তার আগেই আমরা নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করতে প্রচলিত পদ্ধতির প্র্যাকটিস শুরু করি। এর বাইরে কি আমরা এবারো যেতে পেরেছি? খুব শঙ্কা হয়।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষকদের সর্বশেষ বেতন স্কেল যদি বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকরা তুলনা করেন, তাহলে বুঝতে পারবেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দৌড়ায়। প্রায় দুই-তিনটা চাকরি না করলে জীবন-জীবিকা রক্ষা করা কঠিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে, সবচেয়ে মেধাবীদের কাছে সবচেয়ে বেশি কন্ট্রিবিউশন চাইবেন; কিন্তু তাকে দরিদ্র রাখবেন, এটা কী স্ববিরোধিতা নয়?
—ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান, উপাচার্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়