সিলেট থেকে মৌলভীবাজারকে বিভক্ত করেছে কুশিয়ারা নদী। নদী ওপারেই সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলা। মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও, উত্তরভাগ, মুন্সিবাজার ও ফতেহপুর ইউনিয়নের অন্তত অর্ধলাখ মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য বালাগঞ্জকেন্দ্রিক। তবে নদীতে সেতু না থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে উপজেলার চার ইউনিয়নের অর্ধলাখ মানুষের। ছোট ছোট নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয় তাদের। প্রতিকূল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে দুর্ভোগের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও ব্যয় বাড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার শেষ প্রান্তের চার ইউনিয়নের অর্ধলাখ মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্যও সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার ওপর নির্ভরশীল। মৌলভীবাজার সদর থেকে রাজনগর খেয়াঘাটের বাজারের দূরত্ব প্রায় ২৭ কিলোমিটার। যাতায়াতে ১ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। অথচ কুশিয়ারা নদী পার হলেই বালাগঞ্জ। দীর্ঘদিন ধরেই নদীতে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। যখন যে সরকার ক্ষমতায় গেছে তারাই আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু কেউ প্রতিশ্রুতি রাখেনি।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাজনগরের অধিকাংশ ব্যবসায়ীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বালাগঞ্জে। নদী পারাপারের জন্য নৌকাই একমাত্র ভরসা। বর্ষায় রাত একটু বেশি হলেই নৌকাগুলো বন্ধ হয়ে যায়। তখন চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় তাদের। দুই বাজারে নৌকায় করে পণ্য পরিবহনেও ভোগান্তি রয়েছে। এজন্য সিলেট বা মৌলভীবাজার থেকে গাড়ি দিয়ে রাজনগরের মোকামবাজার, কালারবাজার ও খেয়াঘাটের বাজারসহ স্থানীয় হাটে পণ্য পৌঁছাতে যোগ হয় বাড়তি ব্যয়। সেতু থাকলে বালাগঞ্জ থেকে সহজেই পণ্য নিয়ে আসা যেত।
স্থানীয় বাসিন্দা জাফর খান বলেন, ‘কুশিয়ারা নদীর ওপর সেতু না থাকায় এ অঞ্চলের যোগাযোগ, শিক্ষা, অর্থনীতি গতিশীল হচ্ছে না। নদী পারাপারের ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী অল্প বয়সে পড়ালেখা ছেড়ে দেয়। সার্বিক শিক্ষার দিক দিয়ে পিছিয়ে রয়েছে অঞ্চলটি।’
নদীপারের বাসিন্দারা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্কুলে যেতে পারছে না। বিশেষ করে বর্ষাকালে নৌকায় নদী পার হওয়া অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও সময়সাপেক্ষ। এপারে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও নেই। নদী পার হলেই বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অথচ জরুরি অবস্থায় মৌলভীবাজার নিতে গেলে ১ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। আবার সিলেটে নিতে গেলে ফেঞ্চুগঞ্জ ঘুরে যেতে হয়।
এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার হামিদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘খেয়াঘাট-বালাগঞ্জ সেতু নির্মাণের জন্য হাইড্রলজি ও মরফোলজি স্টাডি শেষ হয়েছে। আরো কিছু ধাপ শেষ হলেই উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুতের কাজ শুরু হবে।’