সারা দেশে গড়ে তোলা হবে আধুনিক ও মানসম্পন্ন ডে কেয়ার সেন্টার -সমাজকল্যাণমন্ত্রী

বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলগুলোয় শিল্প মালিকদের ডে কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলার আহ্বান জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী।

কর্মজীবী নারীদের নিশ্চিন্তে কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ এবং শিশুদের নিরাপদ বিকাশ নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের শহর, উপশহর ও জনবহুল এলাকায় আধুনিক মানসম্পন্ন ডে কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এমপি। গতকাল রাজধানীর ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় নবনির্মিত আধুনিক ‘ডে কেয়ার সেন্টার ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার’ উদ্বোধন এবং ৪৮ ও ৪৯তম বেসিক ভূমি ব্যবস্থাপনা কোর্স সমাপ্তকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলগুলোয় শিল্প মালিকদের ডে কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলার আহ্বান জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ কার্যক্রম ব্যক্তিগত কিংবা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) উভয় উদ্যোগেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব। শিশুদের প্রারম্ভিক সুরক্ষায় এ সামাজিক উদ্যোগকে দেশব্যাপী জোরদার করতে শিল্প মালিক ও প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমীন এমপি ।

ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চান, যেখানে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ ও অধিকার নিশ্চিত হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘‌কর্মজীবী মায়েরা মানসিকভাবে উদ্বেগমুক্ত ও শান্তিতে না থাকলে তাদের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ সেবা পাওয়া সম্ভব নয়। কর্মজীবী মায়েদের মানসিক স্বস্তি ও শিশুদের সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এসব ডে কেয়ার সেন্টার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী দেশব্যাপী কর্মজীবী মায়েদের জন্য ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল। তারই অংশ হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে আধুনিক ডে কেয়ার সেন্টারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। শিশুদের প্রারম্ভিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জনবহুল এলাকাগুলোয়ও পর্যায়ক্রমে ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী কর্মকর্তাদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনেরও আহ্বান জানান মন্ত্রী।

উল্লেখ্য, ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ আধুনিক ডে কেয়ার সেন্টার ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারটি স্থাপন করা হয়। ফলে ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আগত নারী প্রশিক্ষণার্থীরা তাদের সন্তানদের নিরাপদে রেখে নিশ্চিন্তে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবেন। নবনির্মিত এ সেন্টারে রয়েছে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত আয়া দিয়ে সার্বক্ষণিক নিবিড় পরিচর্যা, শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশ ও বিনোদনের ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসম্মত ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার এবং সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শিশুবান্ধব পরিবেশ।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহায়তায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ও ব্যবস্থাপনায় ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রায় ৭৫০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে ডে কেয়ার সেন্টারটি স্থাপন করা হয়েছে। ডে কেয়ার সেন্টার ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারের কার্যক্রম প্রতিদিন সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরিচালিত হবে। সরকারি ছুটির দিনগুলোয় কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে ডে কেয়ার সেন্টার ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারের বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন এবং সেবার মান পর্যবেক্ষণ করেন। পরবর্তী সময়ে প্রধান অতিথি ৪৮ ও ৪৯তম বেসিক ভূমি ব্যবস্থাপনা কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও