জলবায়ু পরিবর্তনের সংকট ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ তুলে ধরতে রাজশাহীতে প্রথমবারের মতো গম্ভীরা গানের আয়োজন করেছে ‘ইউরিচ’ (ইয়ুথ ইন রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ)। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের সংগঠনটি গানের ছন্দে ও নাটকের মাধ্যমে জলবায়ুর বাস্তবতা তুলে ধরে সচেতনতা সৃষ্টির বার্তা দিয়েছে।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিকালে রাজশাহীর মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে পরিবেশিত হয় গম্ভীরা গান ও নাটিকা। এ গানে রাজশাহীর জলবায়ু পরিবর্তনের নানা দিক, যেমন তাপদাহ, খরা, পানির সংকট ও শৈত্যপ্রবাহ ছন্দে ছন্দে তুলে ধরা হয়। গানের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের জীবনে পরিবর্তিত আবহাওয়ার প্রভাব ও টেকসই সমাধানের বার্তা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করে সংগঠনটি। একই সঙ্গে রাজশাহীর বাস্তব ঘটনার ওপর নির্মিত একটি নাটিকাও মঞ্চস্থ হয়।
গম্ভীরার নানা চরিত্রের মধ্যে ‘নানা’র ভূমিকায় অভিনয় করা জায়িদ হাসান জোহা বলেন, ‘রাজশাহীর ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি হচ্ছে গম্ভীরা গান যেটা এই উত্তরাঞ্চলের মানুষের সঙ্গে মিশে আছে। এ গানের মাধ্যমে রাজশাহীর জলবায়ু পরিবর্তন-জনিত সমস্যার কথাগুলো তুলে ধরেছি। যাতে মানুষের মধ্যে সচেতনতার সৃষ্টি হয়।’
আয়োজনের বিষয়ে ইউরিচের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও আয়োজক মেহেদী হাসান হৃদয় বলেন, ‘রাজশাহীতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন ভয়াবহ। তাপমাত্রা বাড়ছে, খরা দীর্ঘ হচ্ছে, পানির লেভেল নিচে নামছে। অথচ জাতীয় পর্যায়ে উত্তরাঞ্চলের এ সংকট নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা বা কার্যকর উদ্যোগ নেই। আমাদের আয়োজনের মাধ্যমে আমরা নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই এবং স্থানীয়দেরও সচেতন করতে চাই।’
এদিকে আয়োজনটি উপভোগ করতে মুক্তমঞ্চে জড়ো হন শতাধিক দর্শক। গম্ভীরার ছন্দে জলবায়ুর হাহাকার ও আশার বার্তা শুনে উপস্থিত তারা এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন।