১৭ বছর পর দেশ সত্যিকারের কার্যকর সংসদ পেয়েছে: স্পিকার

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, গণমাধ্যমের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ আরো মহিমান্বিত হবে।

সংসদের প্রতি দেশের জনগণের আস্থা আরো বেড়ে যাবে, এটাই আমি কামনা করি। বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘদিন এ ধরনের সংসদের অপেক্ষায় ছিল। ১৭ বছর আমরা এ ধরনের কার্যকর সংসদ পাইনি।

গতকাল জাতীয় সংসদের সাংবাদিক লাউঞ্জে বাংলাদেশ পার্লামেন্ট জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) আয়োজিত ফল উৎসব-২০২৬ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, ‘১৭ বছর আমরা এ ধরনের কার্যকর সংসদ পাইনি। আমি বেশ কয়েকটি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলাম। বিশেষ করে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলের সংসদের সদস্য ছিলাম, তা বলতেই লজ্জা পাই। অনেক সময় টেলিভিশনে দেখেছি, রেডিওতে শুনেছি এ এলাকা থেকে একজন নির্বাচিত হয়েছেন, দুইদিন পর দেখি অন্য লোক, সংসদে এসে দেখি অন্য লোক। ফাঁকেতালে বহু লোক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে গিয়েছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘এতদিন এ ধরনের আবোল-তাবোল সংসদের পর এবার সত্যিকারের সংসদ পেয়েছি। ১৯৯১ সালে একটি ভালো সংসদ দেখেছিলাম, আর এবারকার সংসদ। এবার অত্যন্ত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। এখানে অনেকেই নিজ গুণে নির্বাচিত হয়েছেন, যাদের তেমন রাজনৈতিক পরিচিতি ছিল না।’

স্পিকার আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘যে ফল উৎসব আমরা সবাই উপভোগ করছি, তা যেন সাধারণ মানুষও উপভোগ করতে পারে এবং তাদের মন-মানসিকতাও সে রকম হয়।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘দেশের সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে সংসদকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং এক্ষেত্রে বিপিজেএর সহযোগিতা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্রকে প্রকৃত অর্থে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। মানুষের কল্যাণে সংসদ যাতে কাজ করতে পারে, সেজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

কায়সার কামাল আরো বলেন, ‘‌এ ধরনের আয়োজন সাংবাদিকদের সঙ্গে সংসদ সদস্যদের একটি মেলবন্ধন তৈরি করে। গণতন্ত্রকে আরো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।’

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি বলেন, ‘‌ফল উৎসবের মাধ্যমে পারস্পরিক সৌহার্দ, সম্প্রীতি ও সুসম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে।’ একই সঙ্গে সাংবাদিকদের কলম আরো শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

চিফ হুইপ বলেন, ‘সংসদকে জনগণের আরো কাছাকাছি নিয়ে যেতে সাংবাদিকদের সব প্রয়োজনীয় উদ্যোগে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

ফল উৎসবে উপস্থিত ছিলেন সরকারদলীয় হুইপ জি কে গউছ, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া, এবিএম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বিএনপির সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জামায়াতের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, সালাহ উদ্দিন, জাতীয় সংসদের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, এম আব্দুল্লাহ, মোস্তফা কামাল মজুমদার, বাছির জামাল, আশিষ সৈকত, জাহেদ চৌধুরী, আমিরুল ইসলাম কাগজী, আলফাজ আনাম, সুলতান মাহমুদ, ইলিয়াস হোসেন, কামরান রেজা চৌধুরী, রিয়াজ আহমেদ, নাফিজা দৌলা, নিখিল ভদ্র প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিপিজেএর সভাপতি হারুন জামিল। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী খান লিথো। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি ফয়েজ উল্লাহ ভূঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, অর্থ সম্পাদক মো. শাহজাহান মোল্লা, দপ্তর সম্পাদক নাজমুল ইসলাম (তানিম আহমেদ), কার্যনির্বাহী সদস্য মশিউর রহমান ও মনিরুল ইসলাম।

আরও