মা ইলিশ রক্ষায় মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলেদের প্রত্যেকের জন্য ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ থাকলেও লক্ষ্মীপুরের অনেক জেলে এখনো তা পাননি। নিষেধাজ্ঞা মেনে ১০ দিন ধরে মাছ ধরা বন্ধ রাখলেও সরকারি খাদ্যসহায়তা না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা। আয় বন্ধ থাকায় পরিবারের খাবার জোগানো ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। অন্যদিকে অবরোধের মধ্যেও নদীতে ইলিশ শিকার ও বেচাকেনা বন্ধ না হওয়ায় নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় জেলেরা।
কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়নের মনির মাঝি, শরীফ মাঝি ও জাহাঙ্গীর মাঝির অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা মেনে তারা নৌকা ডাঙায় তুলে রেখেছেন। কিন্তু ১০ দিন পার হলেও সরকারি খাদ্যসহায়তার চাল পাননি। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় তাদের আয় নেই। অথচ পরিবারের ভরণপোষণ ও ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
নিবন্ধন কার্ড সংগ্রহে সময় লাগায় চাল বিতরণে বিলম্ব হচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন চর কালকিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ছায়েফ উল্যাহ। তিনি বলেন, ‘ইউনিয়নে ৩ হাজার ১০০ জেলে রয়েছেন। আজ থেকে প্রত্যেক জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল বিতরণ শুরু হবে।’
এদিকে নিষেধাজ্ঞা চললেও লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীর বিভিন্ন এলাকায় ইলিশ শিকার ও বেচাকেনা বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জেলেরা। তাদের দাবি, সাহেবের চর ও চর মেঘয় বড় ট্রলারে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা হলেও সেগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। অথচ ছোট নৌকায় মাছ ধরলে অভিযানের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চর রমনী মোহন ইউনিয়নের মজুচৌধুরীর ঘাটসংলগ্ন ভাসমান জেলেপল্লী ও নদীর পাড়ের কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, একের পর এক মাছ ধরার নৌকা ঘাটে ভিড়ছে। নৌকা থেকে ইলিশ কিনছেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়দের ভাষ্য, কোস্টগার্ডের ট্রলার এলে মাছ কেনাবেচা বন্ধ হয়ে যায়। সেটি চলে যাওয়ার পর আবার শুরু হয় বেচাকেনা।
রামগতি ও কমলনগরেও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় ইলিশ শিকার ও বেচাকেনার অভিযোগ উঠেছে। রামগতি বাজার মাছঘাটসংলগ্ন ভাসমান জেলেপল্লীতে সকাল, বিকাল ও রাতে ইলিশ কেনাবেচা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীরা। নদীতে মাছ শিকারের জন্য জেলেদের কাছ থেকে অর্থ নেয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বয়ের অভিযোগও করেছেন তারা। তবে অভিযুক্তরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রামগতি উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. সৌরভ-উজ-জামান বলেন, ‘অভিযুক্তদের নাম তিনিও শুনেছেন। গত দুইদিনে ওই এলাকায় কয়েকবার গেছেন। কিছু জাল ও নৌকা আটক করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নিয়মিত অভিযান চলছে।’
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার প্রথম ১০ দিনে অভিযান চালিয়ে ৮৩ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ইলিশ ও মাছ ধরার জালের পাশাপাশি ১৪টি নৌকা ও একটি স্পিডবোট জব্দ করা হয়েছে।’ শাস্তি দেয়া নয়, জেলেদের সরকারি নির্দেশনা সম্পর্কে সচেতন করাই অভিযানের উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।