ঈশ্বরদীতে দাদি-নাতনিকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন

পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদিকে হত্যা করে নাতনিকে অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত সুফিয়া খাতুনের আপন ভাগনে মো. শরিফুল ইসলামকে (৩০) গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও ঈশ্বরদী থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শরিফুলকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শরিফুল ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন শরিফুল ঈশ্বরদীর কালিকাপুর গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার শরিফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। ‎​শরীফের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি জামিলাদের বাড়িতে বাজার পৌঁছে দিতে যান। সে সময় সুফিয়া খাতুন বাড়িতে না থাকার সুযোগে শরীফ জামিলার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। কিশোরী জামিলা এতে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন এবং শরীফকে চড় মারেন। এ ঘটনায় শরীফ অপমানিত হয়ে ফিরে আসেন। এর কয়েকদিন পর গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে শরীফ আবারো জামিলাদের বাড়িতে যান। এবার তিনি দাদি সুফিয়া খাতুন ও নাতনি জামিলার কাছে আগের ঘটনার জন্য ক্ষমা চান। তবে সুফিয়া খাতুন তাকে ক্ষমা না করে জোরে জোরে চিৎকার শুরু করেন। এতে শরীফ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে শরীফ পাশে পড়ে থাকা একটি কাঠের বাটাম দিয়ে সুফিয়া খাতুনের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। বৃদ্ধা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে জামিলা চিৎকার শুরু করেন। এতে শরীফ তাকেও একই কুন্নি (রাজমিস্ত্রির প্লাস্টার করার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম) দিয়ে জামিলার মাথায় ও কপালে আঘাত করেন। জামিলা মাটিতে পড়ে গেলে শরীফ তাকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির পাশের সরিষাখেতে নিয়ে যান।

‎শরীফ আরো জানিয়েছেন, পুকুরপাড় দিয়ে টেনে নেয়ার সময় জামিলা বিবস্ত্র হয়ে যায় এবং ওই অবস্থাতেই তিনি জামিলাকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পর শরীফ গলা টিপে জামিলার মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ সরিষাখেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। ‎ঘটনার পরে ​প্রাথমিকভাবে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান এবং ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। ‎​হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পাবনা ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল তদন্ত শুরু করে। তারা স্থানীয় তথ্য এবং প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজন হিসেবে শরিফুল ইসলাম শরীফকে শনিবার রাত ১০টার দিকে আটক করে। ডিবি কার্যালয়ে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে শরীফ নিজের অপরাধ স্বীকার করেন এবং হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দেন। পাবনা জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আরও