ডেঙ্গু প্রতিরোধে সভা-সেমিনারে সীমাবদ্ধ না থেকে গবেষণার মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর সমাধান উদ্ভাবনের তাগিদ দিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এ লক্ষ্যে বিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে বাস্তবভিত্তিক পাইলট প্রকল্প নেয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
আজ রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ওলবাকিয়া-ভিত্তিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ডেঙ্গু ও মশা নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তাগিদ দেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় ডেঙ্গু গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ও হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে দীর্ঘসূত্রিতা না করে মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু মোকাবেলায় সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী বিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে বাস্তবভিত্তিক পাইলট প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেয়া সম্ভব। বিজ্ঞানীদের শুধু গবেষণায় সীমাবদ্ধ না থেকে জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবেলায় বাস্তবসম্মত সমাধান নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাসও দেন মন্ত্রী।
সভায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন ডেঙ্গু ও মশা নিয়ন্ত্রণে গবেষণার ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। দেশের আবহাওয়া, ভৌগোলিক অবস্থান ও সামাজিক কল্যাণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাশ্রয়ী এবং বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।
সভায় জানানো হয়, ডেঙ্গু ও মশা নিয়ন্ত্রণে গবেষণার জন্য টেমাসিক ফাউন্ডেশন ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অনুদানে একটি পাইলট প্রকল্প শিগগিরই কাজ শুরু করবে। এ প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজ করা দেশীয় গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের নিজস্ব প্রযুক্তি, জ্ঞান ও উদ্ভাবন কাজে লাগিয়ে প্রকল্পটিকে আরো কার্যকর করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
সভায় বাংলাদেশে সিঙ্গাপুরের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফিলিপ অং, যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির মাইক্রোবায়োলজি, জেনেটিক্স অ্যান্ড ইমিউনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ঝিয়ং শি এবং সিমবায়োসিয়া এসইএর প্রধান নির্বাহী ডেভিড কুয়েক ইয়ং কি বক্তব্য দেন। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, আইইডিসিআরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও গবেষকরা অংশ নেন।