সর্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজ (ইউএইচসি) নিশ্চিত করতে সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধের সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তারা এ তাগিদ দেন।
সভায় বক্তারা বলেন, ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক কাঠামো শক্তিশালী করা, স্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া তৈরি করা ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা জরুরি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পিপিআরসি চেয়ারম্যান ও ইউএইচসি ফোরামের আহ্বায়ক হোসেন জিল্লুর রহমান। এতে অংশ নেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) প্রতিনিধি, ওষুধ শিল্প সংশ্লিষ্টরা, স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞ ও সরবরাহ শৃঙ্খল বিশেষজ্ঞরা। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী, ইউনিসেফের ডা. সি সোলোমান, অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুস সালাম খান, ডিজিডিএর পরিচালক আশরাফ হোসেন, ইনসেপ্টার মো. জাহিদ আলম, এমএসএইচর মো. আবু শাহ জামাল মোল্লা, ইউনিসেফের খায়রুল আনাম, জাতীয় হার্ট ফাউন্ডেশনের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপ-পরিচালক ফিদা মেহরানসহ অনেকে।
সভায় বক্তারা আরো বলেন, ওষুধের মূল্য নির্ধারণ ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতিমালা থাকা জরুরি। তারা জানান, বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প দেশীয় চাহিদার ৯৮শতাংশ পূরণ করছে, পাশাপাশি ৭০টিরও বেশি দেশে ওষুধ রফতানি করছে। তবে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
বক্তারা আরো বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়াতে উন্নত স্টোরেজ সুবিধা, ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করা ও প্রয়োজনীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করা দরকার। এছাড়া ওষুধ উৎপাদনে বেসরকারি খাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও জবাবদিহিা নিশ্চিত করা ও নৈতিক ব্যবসায়িক চর্চা অনুসরণ করা জরুরি।
সভায় একটি স্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা তৈরির ওপর জোর দেয়া হয়। বক্তারা বলেন, ওষুধ উৎপাদন খরচ, ব্যবসায়িক মুনাফার সীমা ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা করে নীতিমালা তৈরি করা উচিত। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো ও ডিজিডিএর জনবল সংকট মোকাবেলা করাও জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়।
সমাপনী বক্তব্যে বক্তারা বলেন, ওষুধ শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কার্যকর নিয়ন্ত্রক তত্ত্বাবধান দরকার। এছাড়া প্রেসক্রিপশন অনুশীলন ও রোগীদের সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। তারা স্বাস্থ্যসেবা খাতকে জাতীয় অগ্রাধিকারে উন্নীত করতে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারদের মধ্যে আরো সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানান।