বাংলাদেশ ব্যাংকের নিখোঁজ উপ-পরিচালক নাইমুর রহমানকে মাদারীপুর শহরের পুরান বাজার এলাকার রয়েল রেস্ট হাউজ নামে একটি আবাসিক হোটেল থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাঈমুর রহমান সরকারের উপস্থিতিতে মাদারীপুর সদর থানার পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন মাদারীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাঈমুর রহমান সরকার, সদর মডেল থানা পুলিশ ও রাজধানী ঢাকার মেট্রোপলিটন পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাসান জানান, ‘গত রোববার সকালে সৈয়দ নাইম রহমান অফিসে যোগ দেন। দুপুর ১২টার পর তিনি অফিসে নিজের ব্যাগ ও পরিচয়পত্র রেখে বের হয়ে যান। এরপর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় তার সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে ঢাকার মতিঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।’
সেই জিডির সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশের অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি মাদারীপুরে অবস্থান করছেন। সেই সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে ‘রয়েল রেস্ট হাউস’ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়।
হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘রোববার বিকেলে তিনি হোটেলে ওঠেন। এ সময় তিনি জানান, একটি চাকরির পরীক্ষা দিতে এসেছেন এবং দুই থেকে তিন দিন থাকার কথা বলেন। অগ্রিম ভাড়াও পরিশোধ করেন তিনি। হোটেলের রেজিস্টারে তার ঠিকানা হিসেবে ঢাকার মিরপুর পল্লবী এবং বাবার নাম সৈয়দ মোস্তাফিজুল রহমান লেখা রয়েছে।’
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি আদিল হোসেন জানান, ‘আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাজধানী ঢাকার মতিঝিল থানা পুলিশের কাছে বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের উপপরিচালক সৈয়দ নাইম রহমানকে হস্তান্তর করা হবে। তাকে চরমুগরিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত ৯ নভেম্বর সকালে উপ-পরিচালক নাইমুর রহমান ব্যাংকে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন। পরে ঢাকার মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন পরিবারের সদস্যরা। এ বিষয়টি নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ও বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল শাখা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাইমুর রহমান রবিবার অফিসে এসেছিলেন। দুপুর ১২টার পর অফিসে ব্যাগ এবং আইডি কার্ড রেখে বের হয়ে যান। এরপর তিনি নিখোঁজ হন। দুপুর ১২টা ৫৩ মিনিটে তিনি তার ব্যাচেরই একজন সহকর্মীকে শেষ মেসেজ দিয়েছিলেন।