রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলায় প্রতিপক্ষের সশস্ত্র হামলায় সুভাষ তনচংগ্যা (৪৫) ও ধরঞ্জয় তনচংগ্যা (৩৬) নামে দুজন নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোর ৩টার দিকে উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের গর্জনিয়া পাড়ার এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত ধরঞ্জয় তনচংগ্যা গর্জনিয়া পাড়ার রণজিত কার্বারির পুত্র এবং সুভাষ তনচংগ্যা রাঙ্গামাটির রাজস্থলি উপজেলার ছাখ্যং গ্রামের মৃত কালাচান তনচংগ্যার পুত্র। সুভাষ সপরিবারে ওয়াগ্গা ইউনিয়নের কাঠালতলী এলাকায় বসবাস করতেন। ঘটনার সময় তিনি ধরঞ্জয়ের বাসাতেই ছিলেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘অজ্ঞাত পরিচয়ের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী ধরঞ্জয় তনচংগ্যার বাড়িতে এসে তাকে ও সুভাষকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে গুলি করে হত্যা করে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই তারা মারা যান। নিহত দুজনই পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতির সদস্য বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। হামলাকারীরাও অন্য কোন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের কর্মী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুনায়েত কাউসার জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে সুভাষের শরীরে দুটি এবং ধরঞ্জয়ের শরীরে পাঁচটি গুলির ক্ষত দেখা গেছে। পাহাড়ের প্রতিপক্ষ অস্ত্রধারীরা আধিপত্য বিস্তারের জন্য এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেও এই সম্পর্কিত কোন তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে নিহত দুই ব্যক্তি জনসংহতি সমিতির কোন গ্রুপের সদস্য কিংবা হামলাকারী কোন গ্রুপের সেই সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।