আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে গায়েবি মামলা হতো। আমরা এখন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা-মোকদ্দমা করছি না। সাধারণ লোকজন, ভুক্তভোগী লোকজন ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ঢালাও মামলা দিচ্ছে। মামলার প্রকোপ দেখা দিয়েছে; এটা আমাদের অত্যন্ত বিব্রত করে।’
বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইন উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। এর আগে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা অনেক ধরনের আইনি সংস্কার ও পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবছি। ভবিষ্যতে আদালতে যে বিচারক নিয়োগ হবে, এটা আমরা একটা আইনের মাধ্যমে করতে চাচ্ছি। আইনের মাধ্যমে করার দাবি সমাজে বহুদিন ধরে আছে। ২০০৮ সালে একটা আইন তৈরি হয়েছিল। সেটা পরে আইনে রূপান্তর হয়নি। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার এসে ওটাকে আর আইনে রূপান্তর করেনি। আমরা ওই আইনটা আরো যুগোপযোগী করতে সংস্কার কমিশনের সহায়তা চেয়েছি, যেন নেক্সট নিয়োগটা আইনের ভিত্তিতে করতে পারি।’
বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে আসিফ নজরুল বলেন, ‘ওনারা যেভাবে কাজ এগোচ্ছেন, তাতে আমি খুবই আশাবাদী। আমার কাছে মনে হয়েছে ওনারা যে রকম একটা বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন বা স্বপ্ন দেখছেন, এটা যদি সত্যি করা যেত, তাহলে সম্ভবত আমাদের বিচারাঙ্গনে সমস্যা যা যা আছে, সেগুলো আর থাকত না কখনো।’
রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ছয়টি কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। এর মধ্যে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন একটি। এ কমিশনের প্রধান হিসেবে আছেন আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এমদাদুল হক, বিচারপতি ফরিদ আহমেদ শিবলী, সুপ্রিম কোর্টের সাবেক রেজিস্ট্রার সাইয়েদ আমিনুল ইসলাম, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মাজদার হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী তানিম হোসেন শাওন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক সুপন ও একজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি।