বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের পাঁচ দশকের সম্পর্ককে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্রের দিকে এগিয়ে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন দেশটির নবনিযুক্ত চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফিলিপ ওং। জনগণের মধ্যে বিদ্যমান দৃঢ় সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করার পাশাপাশি দুই দেশের সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল ঢাকায় সিঙ্গাপুরের ৬১তম জাতীয় দিবসের সংবর্ধনায় তিনি এ প্রত্যাশার কথা জানান।
ফিলিপ ওং বলেন, ‘২০২৭ সালে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫৫ বছর পূর্তি হবে। একই বছর সিঙ্গাপুর আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্ব নেবে।’ এ সময় বাংলাদেশের বন্ধুদের সঙ্গে কাজ করে গত পাঁচ দশকে গড়ে ওঠা জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধান করতে চান তিনি।
ঢাকায় নতুন দায়িত্ব নেয়ার পর এটি তার প্রথম দিকের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম উল্লেখ করে ফিলিপ ওং জানান, বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়ে তিনি আনন্দিত। এর আগে কুয়ালালামপুর, বেইজিং, সাংহাই ও তাইপেতে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বাংলাদেশ সম্পর্কে তার অনেক কিছু শেখার রয়েছে এবং আগামী মাসগুলোতে বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে দেখা ও পরিচিত হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে তার।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের সরকারের নির্দেশনার কথাও তুলে ধরেন ফিলিপ ওং। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে সিঙ্গাপুরের সম্পর্ককে আরো গভীর, বহুমুখী ও গতিশীলভাবে সম্প্রসারণ করাই তার দায়িত্বের মূল লক্ষ্য।
ঢাকায় তার পূর্বসূরি মিচেল লি গত দুই বছরে সিঙ্গাপুরের বাংলাদেশে সম্পৃক্ততা জোরদার এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার যে ভিত্তি তৈরি করেছেন, তার ওপর কাজ এগিয়ে নেয়ার কথা জানান তিনি।
বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের সম্পর্ক যে শুধু সরকারি পর্যায়ের যোগাযোগে সীমাবদ্ধ নয়, ফিলিপ ওংয়ের বক্তব্যে সেটিও উঠে আসে। জনগণের মধ্যে সম্পর্ককে আগামী দিনের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দেখছে সিঙ্গাপুর।
সিঙ্গাপুরের জাতীয় দিবসের আয়োজনেও দুই দেশের সাংস্কৃতিক যোগাযোগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ পাট ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে খাবারের স্টলগুলোতে পাটের ছাদ ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি সিঙ্গাপুরের বহু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে পেরানাকান সংস্কৃতি থেকে অনুপ্রাণিত টাইলস ব্যবহার করা হয়।
বৈশ্বিক বাণিজ্য, অর্থায়ন, উদ্ভাবন ও মানবসম্পদের কেন্দ্র হিসেবে সিঙ্গাপুরের সাফল্য থেকে শিক্ষা নিতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের আরো বেশি সংযুক্তির প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিদ্যমান। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সৌহার্দ্যের ওপর এ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সিঙ্গাপুর ছিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়া প্রথম দেশগুলোর একটি। এ কারণে বাংলাদেশের জনগণের হৃদয়ে সিঙ্গাপুরের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে।’ বর্তমানে সিঙ্গাপুর বাণিজ্য, অর্থায়ন, উদ্ভাবন ও মানবসম্পদের একটি বৈশ্বিক কেন্দ্র উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিঙ্গাপুরের সাফল্য থেকে শিক্ষা নিতে চাই। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে আরো বেশি সংযুক্ত হতে চাই।’
সিঙ্গাপুরকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি।’
জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরো জোরদার হলে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের বন্ধনও আরো দৃঢ় হবে বলে মন্তব্য করেন শেখ রবিউল আলম।