গত বছরের মার্চে চসিক নির্বাচনের আগে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। সে সময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে মোট ভোটার ছিল ১৯ লাখ ৫১ হাজার ৫২ জন। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে পিছিয়ে যাওয়া চসিক নির্বাচন সামনে রেখে নতুন করে ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এতে ভোটার কমেছে ১২ হাজার ৩৪৬ জন। মূলত এলাকা স্থানান্তরের আবেদনের কারণে ভোটার কমেছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
চট্টগ্রাম নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের তথ্যমতে, করোনো সংক্রমণের আগে নির্বাচন কমিশন গত ২ মার্চ হালনাগাদ শেষে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে। চূড়ান্ত তালিকা অনুসারে চসিক নির্বাচনের ভোটার তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছিল। পরে নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পরবর্তী সময়ে মাইগ্রেশন বা স্থানান্তরের সুযোগ দেয়ায় নতুন তালিকায় বর্তমান ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬। এতে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ৯২ হাজার ৩৩ ও নারী ভোটার ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭৩ জন।
তবে ২০১৫ সালের চসিক নির্বাচনে চট্টগ্রামের মোট ভোটার ছিল ১৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৪৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৯ লাখ ৩৭ হাজার ৫৩ এবং নারী ৮ লাখ ৭৬ হাজার ৩৯৬ জন। অর্থাৎ চলতি নির্বাচনে পাঁচ বছরের ব্যবধানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ভোটার বেড়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ২৫৭ জন। পুরুষ ও নারী ভোটার বেড়েছে যথাক্রমে ৫৪ হাজার ৯৮০ এবং ৭০ হাজার ২৭৭ জন।
এদিকে চসিক নির্বাচনে ভোটারদের জন্য ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৩৫টি। এর মধ্যে দুটি কেন্দ্র অস্থায়ী। এসব ভোটকেন্দ্রে ভোটকক্ষ নির্ধারণ হয়েছে ৪ হাজার ৮৮৬টি। এর মধ্যে স্থায়ী ভোটকক্ষ ৪ হাজার ১২২টি ও অস্থায়ী ৭৬৪টি কক্ষ। ২০১৫ সালের চসিক নির্বাচন থেকে চলতি নির্বাচনে ১৬টি ভোটকেন্দ্র বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এদিকে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকার হালনাগাদে নগরীকে ছয়টি থানা এলাকায় বিভক্ত করেছে। এর মধ্যে পাঁচলাইশ থানা এলাকায় ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৮১১ জন, চান্দগাঁও থানা এলাকায় ৩ লাখ ১০ হাজার ৯১৮, কোতোয়ালি থানা এলাকায় ২ লাখ ৪৪ হাজার ৫৯৮, ডবল মুরিং থানা এলাকায় ৪ লাখ ১৫ হাজার ৫২৬, পাহাড়তলী থানা এলাকায় ২ লাখ ৫৯ হাজার ১৯০ ও বন্দর থানা এলাকায় ৩ লাখ ৬২ হাজার ৬৪৬ জন ভোটার রয়েছেন।
চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান জানান, ভোটারদের ভোটার এলাকা পরিবর্তনের একটা অপশন আছে নির্বাচন কমিশনে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মার্চের তফসিল থেকে নতুন তফসিলে ১২ হাজার ৩৪৬ জন ভোটার কমেছে সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে। তবে গত নির্বাচন থেকে এবারের নির্বাচনে ভোটার বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি।
তিনি আরো জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে ২৭ জানুয়ারি চসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে নির্বাচন স্থগিত হওয়ার কারণে কয়েকটি ওয়ার্ডের চারজন প্রার্থী মৃত্যুবরণ করেছেন। সেজন্য এ ওয়ার্ডগুলোয় নতুন তফসিল ঘোষণা করে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে করোনা সংক্রমণের আগে গত ৯ মার্চ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান প্রতীক বরাদ্দ দেন। এ সময় মেয়র পদে বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের এমএ মতিন মোমবাতি প্রতীক, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আবুল মনজুর আম প্রতীক, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের ওয়াহেদ মুরাদ চেয়ার প্রতীক, ইমলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জান্নাতুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এম রেজাউল করিম চৌধুরী নৌকা প্রতীক ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ পান। তিনজন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।
এদিকে নগরীর ৪১টি সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ১৬১ জন ও ১৪টি ওয়ার্ডে সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৫৬ জন প্রার্থী ছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে মেয়র প্রার্থীসহ মোট ২২৩ জন কাউন্সিলর পদপ্রার্থীকে চসিক নির্বাচনের জন্য প্রতীকও বরাদ্দ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। পরে প্রার্থীর মৃত্যুসংক্রান্ত জটিলতায় নতুন চারটি ওয়ার্ডের তফসিলে আরো আটজন মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন।