চাঁদপুরে পাটের আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোয় ব্যস্ত কৃষক

বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ পাটখেত। চলতি মৌসুমে সদর উপজেলায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টরেরও বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।

কৃষকরা এখন পাট কাটা, জাগ দেয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত। গ্রামাঞ্চলের খাল-বিল, পুকুর ও জলাশয়ে সারি সারি পাট জাগ দেয়ার দৃশ্য চোখে পড়ে। ভালো ফলনে গ্রামীণ জনপদে কর্মচাঞ্চল্য বাড়লেও কৃষকদের মূল প্রত্যাশা এখন বাজারে পাটের ন্যায্যমূল্য পাওয়া।

জেলার চাঁদপুর সদর, কচুয়া, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, শাহরাস্তি, হাইমচরসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা দিন-রাত পরিশ্রম করে পাট সংগ্রহ করছেন। পরিবারের সদস্যরাও এ কাজে অংশ নিচ্ছেন। মাঠ থেকে পাট কেটে জলাশয়ে জাগ দেয়া, পরে আঁশ ছাড়িয়ে রোদে শুকানোর কাজে এখন গ্রামীণ জনপদে কর্মচাঞ্চল্য বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাটের আবাদ ও কৃষকদের আগ্রহ আবারো বাড়ছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টিপাতের কারণে এ বছর পাটের ফলন সন্তোষজনক হয়েছে। উৎপাদন ভালো হওয়ায় তারা লাভের আশা করছেন। তবে সেই আশার সঙ্গে রয়েছে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার প্রত্যাশা।

কৃষকদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাজারে যদি পাটের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা যায়, তাহলে আগামী বছর আরো বেশি জমিতে পাট চাষে আগ্রহী হবেন।

কৃষিসংশ্লিষ্টদের মতে, পাট চাষে সরকারি প্রণোদনা, উন্নত মানের বীজ সরবরাহ, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ ও বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে চাঁদপুরে পাট চাষ আরো সম্প্রসারিত হবে। এতে কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের রফতানি আয় বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে সোনালি আঁশ।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তপন রায় বলেন, ‘চলতি মৌসুমে সদর উপজেলায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টরেরও বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের আন্তরিক পরিচর্যার কারণে এবার পাটের ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। উৎপাদনও সন্তোষজনক হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। বাজারে পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষকরা আরো বেশি লাভবান হবেন। একই সঙ্গে আগামী মৌসুমে পাট চাষে তাদের আগ্রহ আরো বাড়বে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই পাটচাষীদের সার্বিক খোঁজখবর ও প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে পাট কাটার মৌসুম চলছে। কৃষকরা মাঠ থেকে পাট সংগ্রহ, জাগ দেয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের কারণে কৃষকদের মধ্যে সন্তুষ্টি রয়েছে।’

আরও