মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিক -প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিশ্বের ২৭টি দেশে ৩০টি শ্রম কল্যাণ উইং প্রবাসীদের সেবায় সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছে।

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের সমস্যা সমাধান ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

তিনি বলেন, ‘প্রবাসীরা বাংলাদেশের “‍ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর”। দেশের অর্থনীতি ও সামগ্রিক টেকসই উন্নয়নে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের সমস্যা নিরসন, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি তাদের সার্বিক কল্যাণসাধন সরকারের অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার।’

গতকাল জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-১০ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার কার্যপ্রণালি বিধির ৭১-এর আওতায় উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিসের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিশ্বের ২৭টি দেশে ৩০টি শ্রম কল্যাণ উইং প্রবাসীদের সেবায় সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছে। এছাড়া ১১টি দেশের ১৩টি কনস্যুলেটে ২২টি নিবন্ধিত ল ফার্ম (আইনি প্রতিষ্ঠান) প্যানেলভুক্ত রয়েছে, যা বিপদে পড়া প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তায় কাজ করছে।

সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা এবং ওমানের মাস্কাটে নারী কর্মীদের সুরক্ষায় তিনটি ‘সেফ হোম’ পরিচালিত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিদেশে অবস্থানকালে কোনো প্রবাসী বাংলাদেশী প্রতারণা, নির্যাতন বা অন্যায় পরিস্থিতির শিকার হলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সালিশি-মধ্যস্থতাসহ প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’

বিএমইটি কার্ডধারী প্রবাসীদের কল্যাণে ‘ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড’ নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশে অসুস্থ প্রবাসীদের জরুরি চিকিৎসা সহায়তা, প্রবাসীদের মেধাবী সন্তানদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের অর্থ সহায়তা এবং প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী কর্মীদের মরদেহ দেশে আনয়ন ও দাফন-কাফন বাবদ মোট ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক অনুদান দেয়া হচ্ছে।’

দেশের কর্মক্ষম বেকার যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর এবং নিরাপদ ও স্বল্প ব্যয়ে অভিবাসন নিশ্চিত করা সরকারের মূল লক্ষ্য বলেও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বিদেশে শুধু সাধারণ শ্রমিকের পরিবর্তে উচ্চতর “‍হোয়াইট কলার জব” (পেশাগত ও কারিগরি চাকরি)-এর সুযোগ সৃষ্টির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। এ লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এবং ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে বৈশ্বিক শ্রমবাজারের সঠিক চাহিদা নিরূপণ করে “‍ডিমান্ড ম্যাপিং” প্রস্তুত করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী তরুণদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশের বাজারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

আরও