আশুলিয়ায় সিলিন্ডার লরি বিস্ফোরণের ঘটনায় ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি

গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে জিরাবো ও ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত সাড়ে আটটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রাত ১১টা ৪৪ মিনিটে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়।

সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় প্রীতি গ্রুপের একটি তৈরি পোশাক কারখানার ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা ভ্রাম্যমাণ সিলিন্ডার লরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনের মৃত্যু হয়েছে এবং শ্রমিক ও পথচারীসহ আহত হয়েছেন ২০ জনেরও বেশি মানুষ।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন জানান, কারখানাটিতে তিতাস গ্যাসের সংযোগ থাকলেও লাইনে পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার লরি থেকে গ্যাস ব্যবহার করা হতো। তবে এসব লরিতে ব্যবহৃত সিলিন্ডারগুলো ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মূলত সিলিন্ডারের ভেতরে থাকা অতিরিক্ত চাপ কিংবা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ৪ নম্বর লরিতে হঠাৎ এই বিস্ফোরণ ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বিভাগীয়ভাবে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এতে সহকারী পরিচালককে সভাপতি, কমান্ডারকে সদস্যসচিব এবং সংশ্লিষ্ট সিনিয়র কর্মকর্তা ও ইন্সপেক্টরকে সদস্য করা হয়েছে। তদন্ত শেষে কীভাবে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে তা নিশ্চিত করা যাবে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে জিরাবো ও ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত সাড়ে আটটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রাত ১১টা ৪৪ মিনিটে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়। ঘটনাস্থলে লরির ভেতর থেকে পাঁচজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বিস্ফোরণের পর ছিটকে আসা সিলিন্ডারের অংশের আঘাতে রাস্তার পথচারী মোছাম্মত জয়নব বেগম (৫৫) ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই ব্যক্তি মারা যান।

আরও