জেলার অনেক কৃষকই এখন সেচের জন্য ডিজেল পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। জ্বালানি সাশ্রয়ের বিকল্প হিসেবে নেয়া সোলার ইরিগেশন প্রকল্প কোনো কাজেই আসছে না।
তথ্য বলছে, প্রায় ১০ বছর আগে সিংগাইর উপজেলার তালেবপুর ইউনিয়নের রসুলপুর এলাকায় কুরিয়ান সংস্থার সহযোগিতায় একটি সৌরবিদ্যুৎ পাম্প স্থাপন করা হয়। ২৪টি সোলার প্যানেলের এ পাম্পের উৎপাদনক্ষমতা ৫ দশমিক ১৬ কিলোওয়াট। প্রায় আট বিঘা জমিতে সেচ দেয়ার সক্ষমতার পাম্পটি বর্তমানে অচল রয়েছে। একইভাবে জেলার ঘিওর উপজেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসির) ২০ লাখ টাকার সোলার পাম্প দুই বছরেও চালু না হওয়ায় কৃষক সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
এদিকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বসানো সোলার পাম্পগুলো বেশ সুফল দিচ্ছে কৃষকদের। ব্যক্তিগত সোলার পাম্প দিয়ে কৃষক সেচ সুবিধা পাচ্ছেন।
রসুলপুর গ্রামের সাবেক মেম্বার কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, ‘২০১৬ সালে সোলার পাম্পটি স্থাপন করা হয়। চালু হওয়ার পর অল্প খরচে সহজেই কৃষক সেচ সুবিধা পাওয়ায় এলাকায় বেশ আলোড়ন তৈরি হয়। এরপর হঠাৎ রাতের আঁধারে সোলার চুরি হয়ে যায়।’
ঘিওর প্রকল্পের বিষয়ে বিএডিসি মানিকগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সেচ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. তিতাস বলেন, ‘প্রথমদিকে ইঞ্জিন ত্রুটির কারণে পাম্পটি চালু করা যায়নি। ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু হলে মেশিনারিজ আরো কিছু সমস্যা ধরা পড়ে। এছাড়া স্থানীয়ভাবে প্রকল্প পরিচালনার জন্য যে কমিটি গঠন করা হয় তাদের অসহযোগিতার কারণে পাম্প চালু করা যায়নি।’ আর সিংগাইরের তালেবপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের সোলার প্রকল্পের ব্যাপারে তিনি খুব একটা জানেন না বলে মন্তব্য করেন।
মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি উন্নয়ন কমিটির সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে প্রকল্পের মাধ্যমে স্থাপন করা সোলার পাম্পগুলো রক্ষণাবেক্ষণে সুষ্ঠু নীতিমালা থাকলেও কার্যকরী ব্যবস্থাপনার অভাবে এ বেহাল অবস্থা। অথচ ব্যক্তি উদ্যোগে বসানো সোলারগুলো সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ বলেন, ‘সরকারিভাবে বসানো প্রকল্পের অচল সোলার পাম্পগুলোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।’