টিআরএনবির অনুষ্ঠানে ইন্টারনেট সেবাদাতারা

বেসরকারি সাবমেরিন কেবল এলে ইন্টারনেটের দাম কমবে

মোহাম্মদ আমিনুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সরবরাহে প্রতিযোগিতা বাড়ানো গেলে ইন্টারনেটের দাম কমবে। ২০২৬ সালে দেশের ব্যান্ডউইথের চাহিদা প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ জিবিপিএস। ২০৩০ সালে এ চাহিদা ৫৪ হাজার জিবিপিএসে পৌঁছাতে পারে। এ চাহিদা পূরণে সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি সাবমেরিন কেবলও প্রয়োজন

বেসরকারি সাবমেরিন কেবল চালু হলে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সরবরাহে প্রতিযোগিতা বাড়বে, যার সুফল ইন্টারনেটের দামে পড়বে বলে জানিয়েছেন ইন্টারনেট সেবাদাতা ও খাতসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক সংযোগে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো হলে গ্রাহক পর্যায়ে সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট সেবা দেয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এ জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি সাবমেরিন কেবলকে সমানভাবে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মহাখালীতে রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) ক্লাব ভবনে ‘সবার জন্য সাশ্রয়ী ইন্টারনেট: টেক জায়ান্টদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে বাধা ও সমাধান কোথায়?’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ (টিআরএনবি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এতে স্বাগত বক্তব্য দেন টিআরএনবি সভাপতি এস এম মাসুদুজ্জামান রবিন। সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাবেক সভাপতি সমীর কুমার দে। বক্তব্য দেন মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের নির্বাহী কর্মকর্তা ও ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম, সিডিনেট কমিউনিকেশন্স লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মশিউর রহমান ও রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম বজলুর রহমান।

অনুষ্ঠানে মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের প্রজেক্ট লিড মাহমুদ শাহেদ ও ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) কোষাধ্যক্ষ মঈন উদ্দিন আহমেদ দেশের ইন্টারনেট খাত নিয়ে দুটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।

মোহাম্মদ আমিনুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সরবরাহে প্রতিযোগিতা বাড়ানো গেলে ইন্টারনেটের দাম কমবে। ২০২৬ সালে দেশের ব্যান্ডউইথের চাহিদা প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ জিবিপিএস। ২০৩০ সালে এ চাহিদা ৫৪ হাজার জিবিপিএসে পৌঁছাতে পারে। এ চাহিদা পূরণে সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি সাবমেরিন কেবলও প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক সংযোগে সরকারি কোম্পনির একচেটিয়া অবস্থান না রেখে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেয়ার কথাও বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, বেসরকারি সাবমেরিন কেবল খাতে বিনিয়োগ বাড়লে গ্রাম পর্যায়ে ইন্টারনেট অবকাঠামো সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। এতে কর্মসংস্থানও বাড়বে। প্রতি ১ হাজার ফিক্সড ব্রডব্যান্ড সংযোগে ১০–১২টি এবং একটি পিওপি স্থাপনে তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচটি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তিনি জানান।

মশিউর রহমান বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দিতে গিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে বাজারে প্রবেশের সুযোগ না দিলে দেশ ও জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রতিযোগিতামূলক দামের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে সেবা পাওয়ার সুযোগ থেকে জনগণ বঞ্চিত হবে। বেসরকারি সাবমেরিন কেবল প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অন্তরায় সৃষ্টি করা হলে জনগণ সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট পাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ১৯৯৬ সালে মোবাইল টেলিযোগাযোগে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হওয়ার পর প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং কলরেট কমেছে। একইভাবে বেসরকারি আইএসপির সম্প্রসারণেও ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়েছে। সরকারি টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনায় আমলাতান্ত্রিক ধারা থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রবন্ধ উপস্থাপনায় মেজর (অব.) মাহমুদ শহীদ বলেন, দেশের আন্তর্জাতিক সংযোগে সাবমেরিন কেবল গুরুত্বপূর্ণ। স্থলভিত্তিক আইটিসি সংযোগ সাবমেরিন কেবলের বিকল্প নয়, বরং ব্যাকআপ হিসেবে কাজ করে। বেসরকারি সাবমেরিন কেবল প্রকল্প বাস্তবায়নে অনুমোদন পেতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তারা জানান, বেসরকারি সাবমেরিন কেবল চালু হলে ইন্টারনেটের মূল্য প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ কমে আসতে পারে। বর্তমানে আইএসপিগুলো প্রতি এমবিপিএস ব্যান্ডউইথ ১২০–১৩০ টাকায় কিনলেও বেসরকারি সাবমেরিন আসলে তা ৬০–৭০ টাকায় কেনা সম্ভব হতে পারে। ২০২৬ সালে ব্যান্ডউইথের জন্য বাংলাদেশকে ভারতকে প্রায় ৪৫–৫০ মিলিয়ন ডলার দিতে হচ্ছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, বেসরকারি সাবমেরিন কেবল বাস্তবায়ন না হলে এ নির্ভরতা আরো বাড়তে পারে। বর্তমানে দেশের ব্যান্ডউইথের প্রায় ৬০ শতাংশ ভারত থেকে আসছে এবং ভবিষ্যতে তা ৮০–৯০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলেও দাবি করেন তারা।

আরও