সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোয় হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পর ফ্লাইট চলাচলে সৃষ্ট বিঘ্নের প্রভাব পড়েছে ঢাকার আকাশপথের যোগাযোগেও। গত তিনদিনে সৌদি আরবগামী এবং দেশটির বিমানবন্দর ব্যবহারকারী ৮২টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৩ হাজার ৭১ জন যাত্রী। তাদের মধ্যে ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে না পারা প্রবাসী বাংলাদেশীরাও রয়েছেন। নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছতে না পারায় চাকরি হারানো ও ভিসার মেয়াদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন অনেকে।
এ পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এয়ারলাইনসগুলোকে জরুরি ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে বেবিচক। ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব বা সময়সূচি পরিবর্তনের তথ্য আগাম জানানো, বিকল্প ফ্লাইট ও টিকিটের অর্থ ফেরতের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া এবং আটকে পড়া যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা থেকে রিয়াদ ও দাম্মামগামী সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
গতকাল সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিমান জানায়, পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও ফ্লাইটের সময়সূচি যথাসময়ে জানানো হবে। তবে জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাতায়াত এবং বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন। টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্যের জন্য নিকটস্থ বিক্রয় কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
ফ্লাইট বাতিলের কারণে কর্মস্থলে ফিরতে না পারা প্রবাসীদের অনিশ্চয়তার চিত্র মিলছে বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের কথায়। তাদেরই একজন জুনায়েদ ইসলাম। গতকাল সৌদি আরব যাওয়ার নির্ধারিত ফ্লাইট ধরতে বিমানবন্দরে এসে জানতে পারেন, সেটি বাতিল হয়েছে। এখন এক সপ্তাহের মধ্যে কর্মস্থলে ফিরতে না পারলে তার ভিসা বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বণিক বার্তাকে জুনায়েদ ইসলাম বলেন, ‘আজ (গতকাল) সাড়ে ৪টায় আমার ফ্লাইট ছিল। এয়ারপোর্টে এসে জানতে পারি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এখন যেভাবেই হোক এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন টিকিটের ব্যবস্থা করতে হবে। আমার ছুটির মেয়াদও আর মাত্র এক সপ্তাহ আছে। এর মধ্যে কর্মস্থলে ফিরতে না পারলে ভিসার মেয়াদ বাড়াতে হবে, না হলে ভিসা বাতিল হয়ে যাবে।’
ফরিদপুর থেকে আসা আরেক প্রবাসী মনিরুল ইসলামও একই অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট বাতিলের খবর জানার পর তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাকে ১৫ অক্টোবর ফ্লাইট পাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানো হলেও নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন তিনি।
মনিরুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এয়ারপোর্টে এসে জানতে পারি ফ্লাইট বন্ধ। বিমান বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে তারা ১৫ অক্টোবর ফ্লাইট দেয়ার সম্ভাবনার কথা জানান। কিন্তু ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত দাম্মামের ফ্লাইট স্থগিত। এখন এ দুই-তিনদিন ঢাকায় কোথায় থাকব, কী করব—কোনো কূলকিনারা পাচ্ছি না। ১৫ থেকে ১৮ অক্টোবরের মধ্যে যেতে না পারলে আমার চাকরি থাকবে না। আবার ছুটি বাড়াতে গেলে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে।’
এদিকে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত না হয়ে যাত্রীদের বিমানবন্দরে না আসার পরামর্শ দিয়েছে বেবিচক। গত সোমবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের কার্যালয় থেকে জারি করা নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোকে এসএমএস, ফোনকল, ই-মেইল, ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাত্রীদের হালনাগাদ তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ফ্লাইটের সংশোধিত সময়সূচি, টিকিট পুনরায় বুকিং ও অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া সম্পর্কেও স্পষ্ট তথ্য দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা, পানীয় জল, হালকা খাবার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ খাবার দিতে হবে। বয়স্ক, শিশু, প্রতিবন্ধী ও অন্য ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীদের জন্য বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি এয়ারলাইনসকে পর্যাপ্ত কর্মীসহ একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি নিয়োগ করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে বলা হয়েছে।