৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর প্রশাসনের সহায়তায় উদ্ধার চুয়েট ভিসি

চুয়েটে সংকটের সূত্রপাত গত ২১ সেপ্টেম্বর। ওইদিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেয়া হয়।

টানা ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর প্রশাসনের সহায়তায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের উদ্যোগে পুলিশি পাহারায় তাকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে আনা হয়। এ সময় উপাচার্যের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তবে তাকে উদ্ধার করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা কাটেনি।

গতকাল বিকাল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে চুয়েট ক্যাম্পাসে যান জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে দাবিগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দেন। উপাচার্য অসুস্থ হয়ে পড়েছেন জানিয়ে তাকে চিকিৎসার জন্য নেয়ার কথা বলেন তারা। পরে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কার্যালয়ের তালা খুলে দেন। এরপর পুলিশি পাহারায় উপাচার্যসহ ভেতরে থাকা অন্যদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে আনা হয়।

চুয়েটে সংকটের সূত্রপাত গত ২১ সেপ্টেম্বর। ওইদিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেয়া হয়। পরদিন থেকে সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। একই সময় থেকে কর্মবিরতি পালন করে আসছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ।

সোমবার সকালে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে প্রশাসনিক ভবন-২-এ নিজের কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে যান উপাচার্য। পরে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কার্যালয়ের ফটকে তালা দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করেন। একই দিন শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করে। সংগঠনগুলোর নেতারা জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত নতুন উপাচার্যকে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করবেন না তারা।

প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমসহ ১১ জন ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে ভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় অসুস্থতা ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকিতে পড়েন তারা। গতকাল বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের কয়েকজন উপাচার্যসহ অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের জন্য খাবার নিয়ে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন।

অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম গতকাল সকাল ১০টার দিকে বলেন, ‘‌আগের দিন থেকে ভবনের পানি, বিদ্যুৎসহ সব ধরনের ইউটিলিটি সেবা বন্ধ রয়েছে। এতে ভেতরে অবস্থানকারীদের অধিকাংশই অসুস্থ বোধ করছেন। অনেকের মুঠোফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেছে। বাকিদের ফোনও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’

উপাচার্যের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতে একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়। তাকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিতে গেলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বাধা দেন। পরে রাত ৪টার দিকে তাকে শহরের উদ্দেশে নেয়া সম্ভব হয়।

গতকাল উপাচার্যকে উদ্ধার করা হলেও নিয়োগবিরোধী আন্দোলন ও সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি অব্যাহত থাকায় চুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষা কবে শুরু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। সংকট নিরসনে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

আরও