পণ্যভর্তি ২৩০ একক কনটেইনার রফতানি হওয়ার কথা থাকলেও ১৭৮ একক কনটেইনার নিয়েই বন্দর ছেড়েছে এন্ডারসন ড্রাগন জাহাজ। অবশিষ্ট রফতানিমুখী কনটেইনার গতকাল জাহাজীকরণ সম্ভব হয়নি সময়মতো বন্দরে পণ্য পৌঁছতে না পারায়। এক হাজার খালি কনটেইনার জাহাজে তোলার কথা থাকলেও ১২০ একক খালি কনটেইনার নিয়েই বন্দর ছাড়তে হয়েছে অন্য আরেকটি জাহাজকে। সংকট প্রকট হচ্ছে আমদানির ক্ষেত্রেও। ইন্টারনেট সেবা চালু না হওয়ায় গতকালও বন্দর থেকে বের হয়নি আমদানি হওয়া কোনো পণ্যের চালান। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শিল্পের কাঁচামাল, খাদ্যপণ্য এমনকি ওষুধের মতো জরুরি চালান আটকে থাকার ফলে ভোক্তা পর্যায়ে বড় সংকট তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ইন্টারনেট সেবা চালু না হওয়ায় ডেলিভারি বাধাগ্রস্ত হলেও বন্দরে জাহাজের কার্যক্রম চলমান আছে। লোডিং-আনলোডিং চলমান রয়েছে। বহির্নোঙরে খালাস কার্যক্রম চালু আছে। ম্যানুয়ালি কাস্টমস সীমিত পরিসরে যে শুল্কায়ন ব্যবস্থা হিসেবে পদক্ষেপ নিয়েছে সেখানে আমদানিকারকদের তো সাড়া দিতে হবে।’
পোশাক কারখানার উদ্যোক্তারা বলেন, ‘সারা দেশের পোশাক কারখানাগুলো থেকে রফতানির চালান কাভার্ড ভ্যানে করে প্রথমে চট্টগ্রামের ১৯টি অফডকে নেয়া হয়। তবে ডিপোতে এসব গাড়ি প্রবেশের আগেই অনলাইনে নথি যাচাই করতে হয়। এরপর ডিপোতে অ্যাসাইকুডা সিস্টেমে পণ্যের শুল্কায়ন ও কনটেইনার সিলগালা হয়ে প্রাইম মুভার ট্রেইলারে করে চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠিয়ে জাহাজে তুলে দেয়া হয়। এখন কারখানার উৎপাদন কার্যক্রমই বন্ধ করে রাখা হয়েছে।’
কনটেইনার ডিপো সমিতির সভাপতি নুরুল কাইয়ুম খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রফতানি পণ্য আমাদের ডিপোগুলোয় জ্যাম হয়ে যাচ্ছে। আমাদের মোট ১৯টি ডিপো থেকে প্রতিদিন গড়ে চার হাজার কনটেইনার স্টাফিং করি। দু-তিনদিন ধরে নতুন কোনো গাড়ি রফতানি কনটেইনার নিয়ে ডিপোতে আসছে না। বন্দরে জাহাজ আছে কিন্তু কার্গো এসে প্রথমে তো স্টাফিং হতে হবে। অফডকে তো কার্গো আসছে না। প্রতিদিন যে কাজ হয় তার ১০ শতাংশও এখন হচ্ছে না। যে ৯০ শতাংশ হচ্ছে না এর কারণে বড় অংকের অর্থ স্টাক হয়ে যাচ্ছে। রফতানি পণ্যের চালানের শুল্কায়ন ম্যানুয়ালি করা সম্ভব নয়। এটা বললেও হবে না। ইন্টারনেট সেবা সংযোগ পেতেই হবে। এখন অল্প পরিসরে যেসব কনটেইনার আমরা ডিপো থেকে বন্দরে পাঠাতে পারছি সেগুলোর সব প্রক্রিয়া আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। গড়ে প্রতিদিন চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে চার হাজার একক কনটেইনার রফতানি হয়।
সেখানে ৪০০ একক কনটেইনারও হচ্ছে না। যখন সবগুলো চালু হবে তখন আবার আরেক ধরনের সংকট তৈরি হবে যেটা আমাদের ফেস করতে হবে।’
চট্টগ্রাম কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক আলমগীর বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বন্দরে প্রচুর গাড়ি পণ্য বোঝাই করে আটকে আছে। ইন্টারনেট সংযোগ না পাওয়া পর্যন্ত বন্দর থেকে পণ্য খালাস নেয়ার কোনো উপায়ই নেই। অ্যাসাইকুডা সিস্টেমেই যদি প্রবেশ না করা যায় আমরা বিল অব এন্ট্রি পাব না। আর বিল অব এন্ট্রি না পেলে আমরা কার্যক্রম এগিয়ে নেব কীভাবে। আইজিএম না দেখলে তো নোটিং করার সুযোগ নেই। এছাড়া এলসি, বিএল, ডিউটি সবই অনলাইনের কার্যক্রম। ফলে বন্দর থেকে পণ্য খালাস করে নেয়ার কোনো অপশন নেই, যতক্ষণ ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা না হয়।’