ভেঙে পড়ল রাবির হাজারো শিক্ষার্থীর স্মৃতিজড়িত কৃষ্ণচূড়া

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাসে রঙিন ফুল, বিস্তৃত ডালপালা আর তীব্র রৌদ্রে স্বস্তির আশ্রয় হিসেবে পরিচিত ছিল যে গাছটি, গ্রীষ্মের খরতাপে যে গাছ তার রক্তিম ফুলে স্নিগ্ধতা ছড়াত, ক্লান্ত দুপুরে শিক্ষার্থীদের দিত প্রশান্তির ছায়া—সেই বর্ষীয়সী কৃষ্ণচূড়া গাছটি আজ আর দাঁড়িয়ে নেই।

ছত্রাক ও উইপোকার আক্রমণে ভেতর থেকে অন্তঃসারশূন্য হয়ে অবশেষে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে রাবির নানা ইতিহাসের সাক্ষী এ গাছটি। প্রাণবন্ত ও বিশালদেহী এ ছায়াদানকারী গাছটির পতনে ক্যাম্পাসজুড়ে নেমে এসেছে একরাশ শূন্যতা ও বিষাদ। গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সত্যেন্দ্রনাথ বসু একাডেমিক ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

সরজমিনে দেখা যায়, গাছটির গোড়া থেকে শুরু করে কাণ্ডের বিভিন্ন অংশে পোকার গভীর ক্ষত রয়েছে। কাণ্ডের ভেতরের বড় অংশ ফাঁপা হয়ে গেছে। ছত্রাক, উইপোকা ও কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকার দীর্ঘদিনের আক্রমণেই যে এ বিশাল বৃক্ষটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল, তা গাছটির ভাঙা অংশ দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই এ কৃষ্ণচূড়া গাছটি ছিল বলে ধারণা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকের। ভবনটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৫৪ সালে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট নিজামুদ্দিন নামের এক কর্মচারী এ কৃষ্ণচূড়া গাছটি রোপণ করেন।

কৃষ্ণচূড়াটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অসংখ্য স্মৃতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাছটি ভেঙে পড়ার ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীরা আবেগঘন পোস্ট দিয়ে স্মৃতিচারণা শুরু করেন।

শিক্ষার্থী নাদিয়া হক মিথি বলেন, ‘গাছটির সঙ্গে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর লাখো স্মৃতি জড়িয়ে আছে। সেদিক দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এখন গাছটার এমন করুণ অবস্থা দেখলে সত্যিই খুব খারাপ লাগবে।’

এ বিষয়ে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এএইচএম মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘‌পরিবেশ ও পরিচর্যার ওপর কৃষ্ণচূড়া গাছের আয়ু অনেকটাই নির্ভর করে। অনুকূল পরিবেশে এবং কাণ্ডে পোকামাকড়ের আক্রমণ না হলে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ শতাধিক বছর, এমনকি প্রায় ১০০-২০০ বছর পর্যন্তও বেঁচে থাকতে পারে।

আরও