জেবি উচ্চ বিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে তিন বছরে সাশ্রয় ৯ লাখ টাকা

৪৫ কক্ষে শতাধিক পাখা, ১২০ বাতি ও ১২ কম্পিউটার চলছে সৌরবিদ্যুতে

সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের আগে প্রতি মাসে গড়ে ২৫-৩০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল আসত। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৪-৫ হাজার টাকায়। অর্থাৎ প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। তিন বছরে এভাবে বিদ্যালয়ের সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ৯ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে মিরসরাই উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে বিদ্যালয়টি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ বাজারের জেবি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২ হাজার। ৪৫টি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় প্রতিদিন চলে শতাধিক বৈদ্যুতিক পাখা, জ্বলে প্রায় ১২০টি বাতি। এর বাইরে ১২টি কম্পিউটারসহ ব্যবহার হয় নানা ধরনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। ফলে একসময় মাসে বিদ্যুৎ বিল গুনতে হতো ২৫-৩০ হাজার টাকা। তিন বছর আগে ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের ছাদে ১২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের পর সেই খরচ নেমে এসেছে ৪-৫ হাজারে। এতে গত তিন বছরে প্রায় ৯ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে বিদ্যালয়টির।

জেবি উচ্চ বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে বৈরী আবহাওয়ার কারণে মিরসরাই উপজেলায় দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিদ্যালয়টির পাঠদান ব্যাহত হচ্ছিল। প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থীকে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ক্লাস করতে হতো। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিলের বাড়তি খরচও ভাবিয়ে তুলছিল বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নেন প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি বড়ুয়া।

ওই বছর প্রায় ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের ছাদে ১২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন করা হয়। বর্তমানে এ ব্যবস্থা দিয়ে বিদ্যালয়ের ৪৫টি কক্ষের শতাধিক পাখা, প্রায় ১২০টি বাতি, ১২টি কম্পিউটারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে কমেছে বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ।

বিদ্যালয় সূত্র বলছে, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের আগে প্রতি মাসে গড়ে ২৫-৩০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল আসত। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৪-৫ হাজার টাকায়। অর্থাৎ প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। তিন বছরে এভাবে বিদ্যালয়ের সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ৯ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে মিরসরাই উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে বিদ্যালয়টি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলছে, সৌরবিদ্যুৎ থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে তাদের তেমন ভোগান্তিতে পড়তে হয় না। যেকোনো পরিস্থিতিতে শ্রেণিকক্ষে আলো-বাতাসের ব্যবস্থা থাকে। এতে একদিকে বিদ্যুৎ খরচ কমেছে, অন্যদিকে বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীলতাও কমেছে। দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এ ধরনের ব্যবস্থা চালু করা গেলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় তা ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে তারা।

জেবি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি বড়ুয়া বলেন, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের আগে বিদ্যালয়ে প্রতি মাসে ২৫-৩০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিলের পেছনে খরচ হতো। এখন সেই খরচ ৪-৫ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পর বিদ্যালয়ে কখন বিদ্যুৎ যায় আর কখন আসে, তা বোঝা যায় না।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস হোসেন বলেন, জেবি উচ্চ বিদ্যালয়ের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে। বিদ্যালয়টিতে এ ব্যবস্থা ভালোভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে। সরকারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করছে।

আরও