মালিক সমিতিকে চাঁদা দিয়ে চলছে ঢাকা নগর পরিবহন

কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিষেবা প্রবর্তনের অংশ হিসেবে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি চালু হয় ঢাকা নগর পরিবহনের গাবতলী-চাষাঢ়া রুট। ২১ নম্বর নামে চিহ্নিত করা রুটটিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ৩৫টি বাস দিয়ে পরিষেবা শুরু হয়।

কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিষেবা প্রবর্তনের অংশ হিসেবে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি চালু হয় ঢাকা নগর পরিবহনের গাবতলী-চাষাঢ়া রুট। ২১ নম্বর নামে চিহ্নিত করা রুটটিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ৩৫টি বাস দিয়ে পরিষেবা শুরু হয়। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) উদ্যোগে রুটটিতে বাস পরিচালনা করছে বোরাক পরিবহন ও যাত্রী সার্ভিসেস লিমিটেড। সরকারি উদ্যোগে নগর পরিবহনের ২১ নম্বর রুট চালু হলেও বাস পরিচালনা করতে গিয়ে পরিবহন মালিক সমিতিকে চাঁদা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি এ-সম্পর্কিত একটি অভিযোগ করা হয়েছে রাজধানীর পল্টন থানায়।

ডিটিসিএ সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া কাউন্টারে স্থানীয় বিএনপি নামধারী লোকজন বেশ কয়েকবার হামলা, গাড়ি ভাংচুর ও কাউন্টারম্যানদের মারধর করে। বিষয়টি নিয়ে ফতুল্লা থানায় অভিযোগও করা হয়। তবে সুরাহা হয়নি। তারা এখনো চাষাঢ়া কাউন্টারের কর্মীদের জিম্মি করে রেখেছে। এখন পর্যন্ত তাদের ২ লাখ টাকার বেশি চাঁদা দিতে হয়েছে। তবে চাষাঢ়া থানার ওসি শরিফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন, এ-সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি।

নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া ছাড়াও ঢাকার গুলিস্তান কাউন্টারেও চাঁদাবাজদের কারণে বাস পরিচালনায় জটিলতা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে ডিটিসিএ সূত্র। অভিযোগ উঠেছে, এ কাউন্টারে রিয়ন, মনির, মাসুম, সুমন, কাদের, নজরুলসহ আরো কয়েকজন চাঁদাবাজ বেশ কয়েকবার হামলা করে। বিষয়টি নিয়ে পল্টন থানায় অভিযোগ করলে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রায়ই গুলিস্তান কাউন্টারের লোকজনকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। কাউন্টারের টেবিল, ছাতা, চেয়ার সরিয়ে রাস্তায় ফেলে দিচ্ছে। একইভাবে গাবতলী, শ্যামলী, কল্যাণপুর, কলেজগেট, টেকনিক্যালেও কিছু সমস্যা রয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে যোগাযোগ করলে ডিটিসিএর বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ধ্রুব আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘২১ নম্বর রুটে বাস পরিচালনা করতে গিয়ে বেশ কয়েক জায়গায় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বাধার মুখে আমাদের পড়তে হচ্ছে। কোথাও কোথাও চাঁদাও দাবি করা হচ্ছে। আমরা বিষয়গুলো পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছি।’

মালিক সমিতির নামে নগর পরিবহন থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির আহ্বায়ক সাইফুল আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মালিক সমিতি কাউকে চাঁদা তোলার অনুমতি বা নির্দেশ দেয়নি। যদি কেউ মালিক সমিতির নামে চাঁদাবাজি করে, তাহলে তাকে ধরে পুলিশে দিতে হবে।’

এদিকে গত ফেব্রুয়ারিতে ৩৫টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস দিয়ে নগর পরিবহনের ২১ নম্বর রুট চালু হলেও বর্তমানে এর অর্ধেক বাসও চলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। রুটটিতে অন্যান্য কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে নগর পরিবহনের বাস। লাভজনক না হওয়ায় একে একে বাস সরিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এ রুটে নগর পরিবহনের বাস ব্যবহার করা একাধিক যাত্রী। নগর পরিবহনের বাসের ভাড়া তুলনামূলক বেশি বলেও জানিয়েছেন তারা।

নগর পরিবহন পরিচালনা নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা উঠে এসেছে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির এক চিঠিতে। এতে বলা হয়েছে, নগর পরিবহনে যাত্রীসেবায় সরকারের উদ্যোগ ও পরিবহনে শৃঙ্খলা আনয়নে ডিটিসিএর ভূমিকা সম্পর্কে যথাযথ প্রচারণার অভাবে সাড়া খুবই কম। যাত্রীরা কাউন্টারভিত্তিক ওঠা-নামার ক্ষেত্রে সচেতন নয়, ইচ্ছামাফিক ওঠা-নামা করতে চায় না।

আরো বলা হয়েছে, যাত্রী ছাউনি না থাকার কারণে টিকিট কেটে কেউ অপেক্ষা করতে চায় না। অনেকে টিকিট ফেরত দিয়ে অন্য বাসে চলে যায়। সিটি করপোরেশন যেসব যাত্রী ছাউনি করেছে, সেগুলো বেহাল, বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটের বাম পাশের যাত্রী ছাউনি দখল করে কয়েকটি কাপড়ের দোকান বানিয়ে রেখেছে।

ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরাও নগর পরিবহনের বাসগুলোর সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যান্য পরিবহনের বাসগুলো যেখানে ৪-৫ মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে যাত্রী তোলে, একই জায়গায় নগর পরিবহনের বাস এলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সেগুলো সরিয়ে দেয়। এ কারণে নগর পরিবহনের বাসগুলো কাউন্টার থেকে যাত্রী পাচ্ছে না বলে অভিযোগ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের।

আরও