দেশে এইচএমপি ভাইরাসে আক্রান্ত নারীর মৃত্যু

দেশে হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাসে (এইচএমপিভি) আক্রান্ত এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সানজিদা আক্তার (৩০) নামে ওই নারী রাজধানীর একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

দেশে হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাসে (এইচএমপিভি) আক্রান্ত এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সানজিদা আক্তার (৩০) নামে ওই নারী রাজধানীর একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত বুধবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

সানজিদা আক্তার কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা হলেও থাকতেন নরসিংদীতে। ৯ জানুয়ারি তার শরীরে এইচএমপিভি শনাক্ত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ওই নারী এইচএমপিভির পাশাপাশি ব্যাকটেরিয়াজনিত অন্য একটি সংক্রমণেও আক্রান্ত ছিলেন। তাই তার পরিস্থিতি কিছুটা জটিল ছিল।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে) অধ্যাপক সায়েদুর রহমান জানান, মাল্টি অর্গান ফেইলিউরের (একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের অকার্যকারিতা) কারণে ওই নারী মারা গেছেন। প্রথমে বাসার আশপাশে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে আসেন। সেখানে ওই নারীকে অ্যান্টিবায়োটিক ও অক্সিজেন দেয়া হয়। এর চারদিন পর অবস্থার আরো অবনতি হলে ঢাকার আরেকটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় তাকে। তখন পরীক্ষায় তার এইচএমপিভি পজিটিভ পাওয়া যায়।

সায়েদুর রহমান বলেন, ‘ওই রোগীর থাইরয়েড ডিজফাংশন (অকার্যকর) ছিল। সেপসিসে মাল্টি অর্গান ফেইলিউর হয়ে তিনি মারা গেছেন। সেপসিস ও মাল্টি অর্গান ফেইলিউরের রোগীদের যখন ভেন্টিলেশনে নেয়া হয় তখন স্বাভাবিকভাবে এদের পরিস্থিতি পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোয়ও যথেষ্ট খারাপ হয়। এ মৃত্যু মূলত ক্লেবসিয়েলার কারণে সেপসিস (ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ব্যাপক সংক্রমণ) এবং সেই কারণে নিউমোনিয়া ও মাল্টি অর্গান ফেইলিউরে হয়েছে।’

এইচএমপিভি নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ এ সহকারী বলেন, ‘সাধারণ স্বাস্থ্যবিধির পাশাপাশি কিছু নিয়ম মেনে চললে এ ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। এখন কেউ অসুস্থ থাকলে তিনি যেন বেশি মানুষের মধ্যে না আসেন। অনেক মানুষের মধ্যে গেলে যেন মাস্ক পরেন। অসুস্থ বোধ করলে যেন ঘরে থাকেন। এটা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’

আরও