সিপিডির আলোচনায় বিদ্যুৎ উপদেষ্টা

স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ক্রয় প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে বিদ্যুৎ খাত

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেছেন, ‘বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে যে অকার্যকর ও জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিচালনা করছিল, সেখান থেকে বের হয়ে এসে এখন একটি নতুন, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রকিউরমেন্ট (ক্রয়) প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে।’

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেছেন, ‘বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে যে অকার্যকর ও জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিচালনা করছিল, সেখান থেকে বের হয়ে এসে এখন একটি নতুন, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রকিউরমেন্ট (ক্রয়) প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে।’

গতকাল রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘রিসেন্ট প্রকিউরমেন্ট ইনিশিয়েটিভ অব রিনিউএবল এনার্জি ইন দ্য পাওয়ার সেক্টর: সিপিডি স্টাডি ফাইন্ডিংস’ শীর্ষক আলোচনায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, ‘১৯৯০-৯১ সালের ধারণা অনুযায়ী তৈরি ইমপ্লিমেন্টেশন এগ্রিমেন্ট এখন আর কার্যকর নয় এবং বাস্তবে এগুলোর কোনো মূল্য প্রমাণিত হয়নি। তাই সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ট্যারিফকে প্রতিযোগিতামূলক রাখা। কারণ যৌক্তিক ট্যারিফ থাকলে ইউটিলিটি সময়মতো পেমেন্ট করতে পারে এবং প্রকল্পের জন্য সেটিই সবচেয়ে বড় গ্যারান্টি। প্রকল্পগুলোর অর্থায়নে ব্যাংক ও অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতা নেয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন সুবিধা ও গ্যারান্টি প্রোগ্রামও ব্যবহার করা হবে। পর্যাপ্ত প্রতিযোগিতামূলক বিল না পাওয়া প্রকল্পগুলো পুনর্বিবেচনা করা হবে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’

সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে তিনি বলেন, ‘সৌরবিদ্যুৎ কার্যক্রমেও নতুন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সরকারি ভবন, স্কুল ও হাসপাতালগুলোতে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপন এবং বিভিন্ন খাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে একটি টেকসই, কম খরচের ও ভবিষ্যৎমুখী বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে।’

জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) উপপরিচালক (কারিগরি) সুলতানা রাজিয়া বলেন, ‘৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিজস্ব ভবনে সোলার স্থাপনের কাজ চলছে। এর মধ্যে আটটি সমিতিতে সোলার স্থাপন কাজ চলমান। ১৩টি সমিতির ১১৮টি স্থাপনার জন্য টেন্ডার মূল্যায়ন চলছে, যার মোট সক্ষমতা ২ দশমিক ৮৮ মেগাওয়াট। এছাড়া বিআরইবির আওতায় ১ হাজার ৭৫২টি নেট-মিটারিং সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে, যার ক্ষমতা ১৪৩ দশমিক ১০৯ মেগাওয়াট। গত অক্টোবরে অতিরিক্ত ২৭টি সংযোগ দেয়া হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও কারিগরি জনবলের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণও দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ১০টি প্রশিক্ষণে ৪৭ জন কর্মকর্তা অংশ নিয়েছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও রুফটপ সোলার কার্যক্রম অগ্রগতি লাভ করছে।’

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম রেজওয়ান খান, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল রিনিউবেল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা মাহমুদ, বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপা) সভাপতি ডেভিড হাসানাত ও অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন বাংলাদেশের ডেপুটি হেড অব মিশন ক্লিনটন পোবকে।

আরও