প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রশাসনে দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে সরকারি সেবা আরো সহজ এবং নাগরিকবান্ধব করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনিক উদ্যোগের চেয়েও প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইতিবাচক মানসিকতা বেশি কার্যকরী।
রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ৮১তম ফাউন্ডেশন ট্রেনিং কোর্স বা বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সমর্থন থাকা দোষের কিছু নয়। তবে যেকোনও রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থনের প্রতিফলন ঘটতে হবে ব্যালট বাক্সে, সরকারি অফিসে নয়। আপনাদের কারও কারও মনে হয়তো প্রশ্নের সৃষ্টি হতে পারে, বর্তমান সরকারও রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। বর্তমান সরকার রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে এবং সেটি সরকারি প্রশাসনের মাধ্যমেই করছে। তবে পার্থক্য হচ্ছে, বর্তমান সরকার যেসব এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে সেইসব এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্যই জনগণ ভোট দিয়ে এ সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।
তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে আগে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা জনগণের সামনে নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছিলাম। জনগণ সে ইশতেহারের পক্ষে তাদের রায় দিয়েছে। তাই সেই নির্বাচনী ইশতেহার এখন দেশের জনগণের ইশতেহার জনগণের দলিল। জনগণের ইশতেহার বাস্তবায়ন করা বর্তমান সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব বাস্তবায়নের প্রশাসনিক কাজটিই আপনারা আন্তরিকভাবে করবেন, সেটিই আপনাদের কাছে সরকারের প্রত্যাশা।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুরুতেই আপনাদের ভবিষ্যৎ কর্মময় জীবনের সুখ-শান্তি-স্বাচ্ছন্দ ও সাফল্য কামনা করি। একাডেমিক জ্ঞান অর্জনের পর ব্যবহারিক জীবনে অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগের কলাকৌশল আপনারা শিখেছেন। এবার সরকারি প্রশাসনে যার ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হচ্ছে, অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগ করে আপনারা যথাযথভাবে সেই দায়িত্ব পালন করবেন। নিঃসন্দেহে আপনাদের জীবনের এটি অন্যতম সেরা একটি আনন্দময় মুহূর্ত। আমি আপনাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আপনারা আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মজীবন শুরু করতে যাচ্ছেন, আপনাদের অধিকাংশই সম্ভবত কর্মজীবনে প্রথমবারের মতো পোস্টিং পাচ্ছেন। আপনারা বর্তমানে রাষ্ট্রের জনপ্রশাসনের অংশ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রশাসন যত বেশি দক্ষ হয় সরকারের কার্যক্রমও তত বেশি সফল হয়। একটি সরকারের সার্বিক সফলতার জন্য দক্ষতা-সততা এবং মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন প্রশাসন জরুরি।