নড়াইলে পাঁচ বছরেই অকেজো ৮৫ শতাংশ সড়কবাতি

গ্রামীণ সড়কগুলোতে নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য নড়াইলের বিভিন্ন এলাকায় স্থাপন করা হয় সৌরবিদ্যুৎ-চালিত সড়কবাতি।

গ্রামীণ সড়কগুলোতে নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য নড়াইলের বিভিন্ন এলাকায় স্থাপন করা হয় সৌরবিদ্যুৎ-চালিত সড়কবাতি। কাবিটা ও টিআর প্রকল্পের আওতায় ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ২০১৯-২০ অর্থবছরে। ছয়টি অর্থবছরে কাবিটার অধীনে ২ হাজার ৬৯৫ এবং টিআর প্রকল্পের অধীন ৩ হাজার ৩৮৮টি সোলার হোম ও স্ট্রিটলাইট অর্থাৎ সড়কবাতি স্থাপন করা হয়। তবে পাঁচ বছর না যেতেই ৮৫ শতাংশ সড়কবাতি অকেজো হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, সড়কবাতি স্থাপনের ফলে নড়াইল-কালিয়া, নড়াইল-মাইজপাড়া, নড়াইল-চণ্ডীবরপুরসহ অন্তত শতাধিক গ্রামীণ সড়ক, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সৌরবিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে। তখন অন্ধকারেও মানুষ নির্বিঘ্নে যাতায়াত করত। গ্রামের হাট ও বাজার পাহারা দিতে এ বাতি বেশ গুরুত্ব বহন করত। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে না হতেই ৮৫ শতাংশ বাতি অকেজো হয়ে গেছে। এতে গ্রামীণ সড়কগুলোতে ফিরে এসেছে ভীতি। বাড়ছে চুরির আশঙ্কা। অবশ্য প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এখন আর এ প্রকল্প চালু না থাকায় এর ভবিষ্যৎ কী সেটা তারাও জানেন না।

লোহাগড়া উপজেলার মরিচপাশা গ্রামের আজম শেখ জানান, মরিচপাশা কবরস্থানে রাস্তার পাশে একটি বাতি স্থাপন করা হয়েছিল। তবে কয়েক মাস পরই সেটি নষ্ট হয়ে যায়। বিভিন্ন সরকারি অফিসে যোগাযোগ করেও বাতি পুনরায় স্থাপন করা যায়নি।

একই এলাকার বাসিন্দা জয়নাল মোল্লা জানান, তাদের এলাকায় অধিকাংশ সড়কবাতি দুই-তিন বছর আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। রাত হলেই এলাকায় ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সদর উপজেলার চণ্ডীবরপুর গ্রামের শিক্ষক সাইদ ভূঁইয়া জানান, তাদের এলাকায় কিছু সড়কবাতি জ্বলে, কিছু জ্বলে না।

একই কথা জানান ফুলসর বাজারের ব্যবসায়ী ইমামুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘চার বছর আগে ফুলসর বাজারে স্থাপন করা একটি সড়কবাতি নষ্ট হলে নতুন আরেকটি স্থাপন করা হয়। সেটিও কয়েক মাস আগে নষ্ট হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট অফিসে গেলে তারা জানিয়েছেন প্রকল্প শেষ হয়ে গেছে। এখন অন্ধকারে বাজার পাহারা দিতে গেলে ভয় লাগে।’

সদর উপজেলার ভবানীপুর বাজারের ব্যবসায়ী আশরাফ শেখ বলেন, ‘ভবানীপুর বাজারে চার বছর আগে একটি সড়কবাতি স্থাপন করা হয়। তবে এক বছর পরই সেটি নষ্ট হয়ে যায়। পরে আর মেরামত করা হয়নি।’

একই অবস্থা বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের টাবরা গ্রামেও। সেখানেও বেশকিছু সড়কবাতি অকেজো হয়ে পড়েছে। ইউনিয়নের মেম্বার ভবরঞ্জন রায় বলেন, ‘টাবরা গ্রামে চারটি সড়কবাতির একটিও জ্বলে না। সোলার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেকের লোকজন সড়কবাতি মেরামত করেছিল। তারপর আর এসব বাতি দেখাশোনার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। অনেক বাতি ওয়ারেন্টি শেষ হওয়ার আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট অফিসে অভিযোগ দিয়েও কাজ হয়নি।’

সদর উপজেলার ভদ্রবিলা ইউনিয়নের সচিব বাবুল মজুমদার জানান, ভদ্রবিলা ইউনিয়নে পাঁচ-ছয় বছর আগে টিআর-কাবিটা প্রকল্পের আওতায় ২০টি সড়কবাতি দেয়া হয়। তার জানা মতে, এর বেশির ভাগই নষ্ট হয়ে গেছে।

এসব বাতি তিন বছর (ওয়ারেন্টি টাইম পর্যন্ত) ভালোভাবে জ্বলেছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার অফিসের সামনের দুটি বাতি জ্বলেছিল। বাকিগুলোর কী হয়েছিল তা বলতে পারব না।’

এ বিষয়ে সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজার সোয়েবুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সদর উপজেলায় আমাদের কোম্পানি সোলার সরবরাহ করেছে। তবে তিন বছরের ওয়ারেন্টি থাকাকালে সড়কবাতি নষ্ট হয়ে গেলে নিয়ম অনুযায়ী আমরা মেরামতের ব্যবস্থা করেছি। এসব মনিটরিং করত সরকারি ইটকল নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এখন ওয়ারেন্টি পিরিয়ড শেষ হয়ে যাওয়ায় আমাদের কিছু করণীয় নেই। নষ্ট হওয়া সোলার মেরামতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে যদি আমাদের দায়িত্ব দেয়, তাহলে আমরা মেরামতের ব্যবস্থা করব।’

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, ‘জেলার বিভিন্ন সড়কে ১ হাজার ১২৭টি খুঁটিসহ স্ট্রিটলাইট স্থাপনের তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। বাকিগুলোর কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে প্রকল্প শেষ হয়ে গেছে। পরে এসব বাতি সংরক্ষণের জন্য কোনো বরাদ্দ আসেনি। বরাদ্দ পেলে বাতিগুলো চালু করার পদক্ষেপ নেয়া যাবে।’

আরও