এ প্রাদুর্ভাবের জন্য দুর্গম পাড়াগুলোয় স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়মিত যাতায়াত না থাকাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। সেই সঙ্গে দুর্গম এলাকার বাসিন্দাদের অসচেতনতা ও টিকা নিতে অনীহার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাদুর্ভাবের শুরুর দিকে চিকিৎসা না পাওয়ায় সংক্রমণে চার শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে দুজন রুইতনপাড়ার, অন্য দুই শিশু রুংলতপাড়ার। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বা অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোনো মৃত্যু নেই বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হানিফ।
কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো বণিক বার্তাকে জানান, দুর্গম আন্দালি, ফাত্রা, চাইল্যাতলী থরনি ও পাহাড়ভাঙাপাড়াসহ আট-নয়টি পাড়ার প্রায় শখানেক পরিবারের শিশু টিকার আওতার বাইরে রয়েছে। বাসিন্দাদের অসচেতনতার জন্যই এমন হয়েছে। দ্রুত এসব শিশুকে টিকার আওতায় আনতে তালিকা করা হচ্ছে।
হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় দুর্গম এলাকাগুলোয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী টিকা দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডা. মোহাম্মদ হানিফ। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘২৬ এপ্রিল থেকে কুরুকপাতা মৈত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প বসিয়ে টিকা ও চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছিল। তবে দুর্গম এলাকায় প্রাদুর্ভাব বাড়ায় সেখানকার মানুষের সুবিধার কথা চিন্তা করে সম্প্রতি ক্যাম্পটি মাতামুহুরী নদীর উজানে পোয়ামুহুরী এলাকার খেদারঝিরি বিদ্যামনি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আলীকদম উপজেলার শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী ৮ হাজার ২৮৭ শিশুকে হামের টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ৭২৫ শিশু টিকা পেয়েছে। কুরুকপাতা ইউনিয়নে ৮৩৮ জন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭৮২ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ৫-১৫ বছর বয়সী আরো ৮৬২ শিশু-কিশোরকে টিকা দেয়া হয়েছে।
গত দুই সপ্তাহে কুরুকপাতা ইউনিয়নের ১৪৮ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ১২২ জন ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে ৫৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে ৬৬ শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে এবং তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে জরুরি বিভাগ থেকে এ পর্যন্ত ২৬ জন চিকিৎসা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার এ কর্মকর্তা।
দুর্গম পাড়াগুলোর শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে গতকাল উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডা. মোহাম্মদ হানিফ জানান, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুর্গম এলাকার প্রতিটি পাড়ায় গিয়ে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।