শিক্ষক, শ্রেণীকক্ষ, আবাসন ও ল্যাবসহ নানা সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে বাগেরহাটের একমাত্র সরকারি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ। শিক্ষক সংকটে দুই শিফট বন্ধ করে একটি শিফটে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। এতে ভোগান্তিতে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। এছাড়া নেই ক্যান্টিন ও উপযোগী খেলার মাঠ। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, শ্রেণীকক্ষ, আবাসন ও ল্যাব সংকট সমাধানে বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজ চলছে।
কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যাপীঠে সাত শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের জন্য কোনো ক্যান্টিন নেই। একটি খেলার মাঠ থাকলেও, বছরের চার মাস জলাবদ্ধ থাকে। একসময় শিক্ষার্থীদের জন্য হোস্টেল থাকলেও বর্তমানে আবাসন ব্যবস্থা নেই। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আবাসনের ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছে দূর থেকে আসা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।
ফকিরহাট উপজেলা থেকে আসা হুসাইন নামে শিক্ষার্থী বলেন, ‘নিয়মিত বাড়ি থেকে এসে ক্লাস করি। হোস্টেলের ব্যবস্থা থাকলে কষ্ট লাঘব হতো।’
ইলেকট্রিক্যাল ট্রেডের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আল-আমিন বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতে মাঠ জলাবদ্ধ হয়ে যায়। মাঠে খেলাধুলা করতে পারি না। শ্রেণীকক্ষে পানির মেশিন থাকলেও, নিয়মিত খাবার পানি পাওয়া যায় না। কলেজের অভ্যন্তরে ক্যান্টিনও নেই। কলেজের এক স্টাফ কিছু ফাস্টফুড বিক্রি করেন। তাও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।’
কলেজের কম্পিউটার ও আইটি ট্রেডের শিক্ষার্থী নাজনীন বলেন, ‘শিক্ষকদের কাছ থেকে ভালোই শিখছি। তবে ব্যবহারিক ক্লাস হয়েছে মোটামুটি। আরো একটু বেশি হলে ভালোই হতো।’
কারিগরি শিক্ষার মূল হলো ব্যবহারিক ক্লাস। শিক্ষক না থাকায় সব ব্যবহারিক ক্লাস হয় না। এছাড়া ব্যবহারিক ক্লাস করার সময় কোনো উপাদান যদি ভেঙে যায় বা খোয়া যায় সেক্ষেত্রে সবাই মিলে টাকা দিয়ে কিনে দিতে হয় বলে জানান এক শিক্ষার্থী।
জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘পদ অনুযায়ী শিক্ষক না থাকায় আমাদের ওপর অনেক চাপ পড়ে। শিক্ষার্থীদেরও কিছু অসুবিধা হয়। আবাসিক সুবিধা থাকলে শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো হতো।’
কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করা শিক্ষার্থী সাকিব হাওলাদার বলেন, ‘কলেজে ব্যবহারিক করার যন্ত্রপাতি সবই ছিল। কিন্তু ঠিকঠাক মতো আমাদের শেখানো হতো না। পাস করা বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর বাস্তবিক কাজের দক্ষতা খুবই কম। বেশির ভাগই বেসিকের বাইরে তেমন কিছু জানে না।’
এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক অমিয় কুমার পাল বলেন, ‘নতুন করে তিনটি শ্রেণী বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু কোনো শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ করা হয়নি। নানা সংকটের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের পাঠদান সঠিকভাবে করানোর চেষ্টা রয়েছে আমাদের।’
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. বাদশা মিয়া বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পাঁচতলাবিশিষ্ট একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজ চলছে। শেষ হলে শ্রেণীকক্ষ ও ল্যাব সংকট সমাধান হবে। শিক্ষক সংকট ও মাঠের সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ডিপ্লোমা শিক্ষাক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।’