মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার

সড়ক বিভাজকের জায়গায় ভাগাড় বাস-লেগুনার গ্যারেজ, পুলিশ বক্স

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা সায়েদাবাদ। দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোর বাস টার্মিনালের অবস্থান এখানে। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষের যাতায়াত এ পথে। টার্মিনালের পাশেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র (এসটিএস)।

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা সায়েদাবাদ। দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোর বাস টার্মিনালের অবস্থান এখানে। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষের যাতায়াত এ পথে। টার্মিনালের পাশেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র (এসটিএস)। একটু পশ্চিমে ওয়ারী। সেখানেও একটি এসটিএস রয়েছে। পূর্বদিকে যাত্রাবাড়ীতেও আছে বিশাল এসটিএস। প্রতিটি এসটিএস থেকে অল্প দূরত্বেই রয়েছে পুলিশ বক্স। সৌন্দর্যবর্ধনের কথা থাকলেও মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের নিচের চিত্র এখন এমনই। আছে বাস-লেগুনা ও মোটরসাইকেলের পার্কিং। সড়ক বিভাজক ভেঙে দখল করা হয়েছে ফ্লাইওভারের এ নিচের জায়গাগুলো।

ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ২২ জুন মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের কাজ শুরু হয়। ২০১৩ সালের ১১ অক্টোবর এটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) ভিত্তিতে এ ফ্লাইওভার নির্মাণে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ছিল ওরিয়ন ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। পলাশী থেকে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পর্যন্ত ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য ১০ দশমিক ৬ কিলোমিটার। ফ্লাইওভারটি বিভিন্ন প্রান্তে চারটি লেনে বিভক্ত। এর ওপর দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে কয়েক হাজার যানবাহন।

ফ্লাইওভারের নিচে উঁচু বিভাজকে সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনা ছিল মূল নকশায়। সেখানে ফুলের গাছ লাগানোর পরিকল্পনাও ছিল। তবে সরজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর বৃহত্তম মৎস্য আড়ত ও কাঁচাবাজারের আড়ত থাকায় শনি আখড়া থেকে যাত্রাবাড়ী মোড় পর্যন্ত ফ্লাইওভারের পুরোটা ব্যবসায়ীরা নানাভাবে দখল করে রেখেছেন। কেউ দখল করে দোকান করছেন, কেউ দোকান ভাড়া দিচ্ছেন, কেউবা ব্যবসাসামগ্রী রেখে ব্রিজের নিচে জায়গা দখল করে রেখেছেন।

শনি আখড়া থেকে যাত্রাবাড়ী অংশের পুরোটাই বাজার ও বাজার সামগ্রী রেখে দখল করা হয়েছে। ব্রিজের নিচে দীর্ঘদিন ধরে তরকারি বিক্রি করছেন আজমল হোসেন। তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাঁচ বছর ধরেই তিনি এ জায়গায় দোকান করছেন। এখানে দোকান করতে হলে রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশকে ম্যানেজ করতে হয় বলেও জানান তিনি।

যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা থেকে পশ্বিম দিকে এগোলে দেখা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের এসটিএস। বর্জ্যের ভাগাড় হওয়ায় আশপাশের জায়গা অন্য কোনোভাবে দখল হতে দেখা যায়নি। যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল থেকে সায়েদাবাদ রেললাইন পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার আবার পুলিশ বক্স, অস্থায়ী দোকানের দখল রয়েছে। সায়েদাবাদ রেললাইনের পর আবার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের বর্জ্যের ভাগাড়। এরপর টিকাটুলী, ওয়ারী, জয়কালী মন্দির মোড়, কাপ্তান বাজারের সামনে পর্যন্ত পুরো সড়ক বিভাজক বেদখল। কোথাও এসটিএস, কোথাও পাবলিক টয়লেট, পুলিশ বক্স, হকার আর ছিন্নমূলদের বসবাস।

মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের নিচের জায়গা বেদখল এর আগেও ছিল। তবে সম্প্রতি ফ্লাইওভারের সড়ক বিভাজক ভেঙে সেখানে গাড়ির গ্যারেজ করা হয়েছে। ইনিমার্টের সামনে থেকে শুরু করে ওয়ারী থানা হয়ে কাপ্তান বাজার পর্যন্ত পুরো জায়গায় সারি সারি মোটরসাইকেল, লেগুনা ও বাসের দখলে।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে এক লেগুনা চালক বলেন, ‘আগে তো এভাবে দখল হয়নি। এখন পুলিশের গাড়ি, বাস, লেগুনা সবই রাখা হয়। এগুলো থানা, পুলিশ সিটি করপোরেশন সবাইকে ম্যানেজ করেই করা হচ্ছে।’

কাপ্তান বাজার থেকে আরো সামনে এগোলে গুলিস্তান। গুলিস্তান থেকে চানখাঁরপুল পর্যন্ত পুরো লেন জুতা ব্যবসায়ী আর কবুতর ব্যবসায়ীদের দখলে। খোদ ডিএসসিসির নগর ভবনের সামনেই ফ্লাইওভারের নিচের জায়গা দখল করে ঘোড়ার আস্তাবল বানিয়ে রাখা হয়েছে। যদিও ডিএসসিসি জানিয়েছে, এসব ব্যাপারে তাদের জানা নেই।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা হাসিবা খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌আমার এ বিষয়গুলো জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

নগরীর ফ্লাইওভারের নিচের জায়গা অব্যবহৃত রাখার ফলে নাগরিক নিরাপত্তা সরাসরি ব্যাহত হয় বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের (ইউআরপি) অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ। তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাবেক সভাপতিও। ড. আকতার মাহমুদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এটা ডিএসসিসিসির চরম ব্যর্থতা যে তারা এখনো ফ্লাইওভারের নিচের জায়গার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারেনি। উল্টো তাদের অবহেলায় ফ্লাইওভারের মিডিয়ান ভেঙে সেগুলো এখন দখলদারদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। ঢাকার সবচেয়ে বড় সংকট হলো এখানে সবুজের অভাব। তাই অতি দ্রুত ফ্লাইওভারের নিচের জায়গার সর্বোত্তম নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সবুজায়ন করা হোক, এটাই আমাদের দাবি।’

আরও