বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি (এনআইবি) এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বায়োটেকনোলজি (এনআইবি) একটি আন্তর্জাতিক মানের জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান, যার আধুনিক ল্যাবরেটরি ও অবকাঠামোগত সুবিধা বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে স্কুল অব এগ্রিকালচারের এমএস ও পিএইচডি গবেষকদের বিশ্বমানের গবেষণার সুযোগ করে দেবে।
তিনি আরো বলেন, বিজ্ঞান কেবল তাত্ত্বিক পড়াশোনা বা জার্নাল পাবলিকেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বায়োটেকনোলজির সঠিক ও ব্যবহারিক প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন ওষুধ, জৈব সার, জলবায়ু-সহনশীল ফসল এবং মৎস্য খাতের দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটিয়ে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব এনআইবির রিসোর্স পার্সন ও বিজ্ঞানীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষাদানের পাশাপাশি তাদের মূল মনোযোগ যেন গবেষণাতেই বজায় থাকে, যাতে প্রতিষ্ঠানের মূল গবেষণা কার্যক্রম কোনোভাবে ব্যাহত না হয়।
বাউবির ৩য় ও ৪র্থ বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থীরা গবেষণায় যুক্ত হলে তারা এনআইবির জন্য এক বড় ধরনের সহায়ক মানবসম্পদ হিসেবে কাজ করবে জানিয়ে সচিব বলেন, এটি আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। এছাড়া যৌথ ডিগ্রি প্রদান ও সনদে উভয় প্রতিষ্ঠানের লোগো ব্যবহারের ফলে দুই প্রতিষ্ঠানের ওপরই গুণগত দায়বদ্ধতা এসেছে উল্লেখ করে তিনি মানসম্মত কাজ ও সুনির্দিষ্ট ফলাফলের মাধ্যমে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের আহ্বান জানান।
গবেষণা ও উদ্ভাবন সম্প্রসারণে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সচিব আরো জানান, বাউবি এ অংশীদারত্বের আওতায় আসায় তাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সহযোগিতা বাড়ানো হবে। এছাড়া, বর্তমানে সরকার 'ন্যাশনাল ইনোভেশন হাব' তৈরি করছে, যেখানে বাউবি ও এনআইবি যৌথভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এনআইবির আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব সুবিধা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাউবি ও এনআইবি যৌথভাবে বায়োটেকনোলজির নতুন নতুন উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও প্রসেস বের করে দেশের কৃষি, ওষুধ শিল্প ও জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, এ চুক্তির আওতায় উভয় প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে বায়োটেকনোলজিতে ডিপ্লোমা, এমএসসি, এমফিল এবং পিএইচডি ডিগ্রি দেবে। সহযোগিতার মূল ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে, যৌথ কারিকুলাম ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রণয়ন, জিনোমিক্স, বায়োইনফরমেটিক্স ও মলিকুলার বায়োলজি বিষয়ে যৌথ গবেষণা, পরীক্ষাগার ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ এবং মেধাস্বত্ব ও গোপনীয়তা রক্ষা সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নীতিমালা।
অনুষ্ঠানে এনআইবির পক্ষে মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সগীর আহমেদ এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার টি এম আহমেদ হোসেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী ও ড. সৈয়দা নওশিন পর্ণিনী, বাউবির স্কুল অফ সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল মজিদ মন্ডলসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।