বেশ কয়েক বছর ধরেই দেশের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেড় বছর অতিবাহিত হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে সার্বিক অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
২০২৪ সালে ৫ আগস্টের আগের সময়ের কথা যদি বলি, সে সময় কভিড, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ডলারের ঊর্ধ্বগতি সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করেছে। তাছাড়া দুর্নীতি প্রতি বছরই বেড়েছে বৈ কমেনি। এগুলোর প্রভাবে অর্থনীতি চাপের মধ্যে ছিল। ৫ আগস্টের পর সরকারি ব্যয় অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। আগের দুর্নীতির যে প্রভাব ছিল তার সঙ্গে সরকারি ব্যয় হ্রাস এবং অনিশ্চয়তা মিলিয়ে অর্থনীতি চাপের মধ্যে আছে।
একসময় তো ডলার সংকটের কারণে ব্যবসায়ীরা এলসি খুলতে পারছিলেন না। গত এক বছরে সেই সংকট অনেকটাই কেটে গেছে। এর কোনো সুবিধা কি ব্যবসায়ীরা পেয়েছেন?
এখন ডলার সংকট নেই, এলসি খোলা যাচ্ছে সেটি ঠিক আছে। কিন্তু সে সময় একলাফে ডলারের দাম ৯০-১২৫ টাকার ওপরে উঠে গিয়েছিল। এ কারণে কোম্পানিগুলোর যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, সেটি কিন্তু এখনো পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হয়নি। কারণ ব্যবসা করেই তো এ ক্ষতি পোষাতে হবে। সেটি করার মতো পর্যাপ্ত সময় আমরা পাইনি।
বর্তমানে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতির কারণ কী? ব্যবসায়ীরা কি বিনিয়োগ করতে ভরসা পাচ্ছেন না?
২০২১ সাল থেকেই ব্যবসায়ীরা বেশ কয়েকবার বড় ধাক্কা খেয়েছেন এবং এর প্রভাব এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া আস্থার বিষয়টিও রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তারা সামনে এগোনোর ক্ষেত্রে দ্বিধায় থাকেন। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা কোথাও বিনিয়োগ করার আগে সেখানকার কর ব্যবস্থা, ব্যবসা সহজীকরণ সূচক, স্থিতিশীল পরিবেশ এগুলো বিবেচনায় নিয়ে থাকেন। তারা কিন্তু এ বিষয়গুলো বিবেচনা করে এখনো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্য আসছেন না। ফলে সেভাবে বিনিয়োগ করার মতো পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি।
২০২৬ সাল কেমন যাবে বলে মনে করছেন?
আমরা ব্যবসায়ীরা সবসময়ই আশাবাদী। সরকারের কাজ কিন্তু মুনাফা করা নয়। সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে দেশের জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করা। আর কোম্পানিগুলোর দায়িত্ব হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি মুনাফা করে সেটির ভাগ শেয়ারহোল্ডারদের দেয়ার মাধ্যমে তাদেরকে সমৃদ্ধ করা। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার নিঃস্বার্থভাবে জনগণের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে। সেই সঙ্গে নতুন সরকার দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরবে, যাতে করে আমরা একটি সুস্থ ব্যবসায়িক পরিবেশ পেতে পারি এবং আমাদের মেধাকে কাজে লাগাতে পারি।
পুঁজিবাজারে বিভিন্ন খাতের কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে কোন কোম্পানিগুলো চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে আর কারা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে?
সরকারি ব্যয় কমে যাওয়ার কারণে নির্মাণ খাতের কোম্পানি সমস্যায় পড়েছে। এ খাতের কোম্পানিগুলোর ব্যবসা ৩০-৪০ শতাংশের মতো কমে গেছে। অন্যদিকে ওষুধ খাতের কোম্পানিগুলো সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
সরকারি ব্যয়ের ওপর নির্ভর করে নির্মাণ খাতের কোম্পানিগুলো যখন ব্যবসা সম্প্রসারণে যাচ্ছিলে, তখন কিন্তু আমরা প্রশ্ন করেছিলাম যে সরকার ব্যয় করা কমিয়ে দিলে তখন কী হবে? এক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো কি মাত্রাতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগ করেছিলে?
দেখুন নির্মাণ খাতের কোম্পানির ব্যবসা শুধু সরকারের ব্যয়ের ওপর নির্ভর করে না। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে এটি সম্পর্কিত। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ব্যবসা ১০-১২ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে কিন্তু সেটি ৩০-৪০ শতাংশ কমে যাবে সেটি স্বাভাবিক নয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক ব্যবসায়ীকে পালিয়ে যেতে হয়েছে। এর মধ্যে তালিকাভুক্ত কিছু কোম্পানির উদ্যোক্তারাও রয়েছেন। তাদের অনুপস্থিতিতে কোম্পানিগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতির উদ্ভব হওয়ার কারণ কী? এক্ষেত্রে কি ব্যবসা ও রাজনীতির মধ্যে একটি সীমারেখা টানা উচিত ছিল?
আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে সীমারেখা টানা উচিত ছিল। একজন ব্যবসায়ী রাজনৈতিকভাবে এমন কী কার্যক্রমে জড়িত হবেন যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর তাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হবে? এটা তো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তালিকাভুক্ত কোম্পানির সঙ্গে অতালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট কাঠামোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো পেশাদার কর্মীদের মাধ্যমে পরিচালিত হবে এবং আইনেও সেটি বলা আছে। উদ্যোক্তারা বড় শেয়ারহোল্ডার হিসেবে পর্ষদে বসবেন কিন্তু কোম্পানির দৈনন্দিন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করবেন না এটিই হওয়া উচিত। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে এখনো আমরা সে পর্যায়ে যেতে পারিনি। পেশাদার কর্মীর মাধ্যমে কোম্পানি পরিচালিত হলে কোনো কারণে উদ্যোক্তারা না থাকলেও কোম্পানি পরিচালনায় সমস্যা হবে না।
বিনিয়োগকারীদের দিক থেকে অভিযোগ রয়েছে যে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো যথাযথভাবে ও সময়মতো মূল্য সংবেদনশীল তথ্যসহ অন্যান্য তথ্য এবং আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে না। বিশ্বের অনেক দেশে যথাসময়ে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করলে কোম্পানির লেনদেন বন্ধ রাখার বিধান রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের যথাযথ তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে সাংগঠনিকভাবে বিএপিএলসির ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে কী?
আমাদের যে সাড়ে তিনশর বেশি সদস্য আছে তাদের মধ্যে বেশকিছু কোম্পানি এ অভিযোগে অভিযুক্ত এ বিষয়ে আমি একমত। এটি আমাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক। আমাদের অধিকাংশ সদস্যই নিয়ম মেনে চলেন। যারা নিয়ম লঙ্ঘন করছে তাদেরকে সমর্থন করার কোনো কারণ নেই। তবে এক্ষেত্রে নিয়ম পরিপালন করা হচ্ছে কিনা সেটি যারা নজরদারি করে থাকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, তারা যদি অনিয়মের অংশ হয়ে যায় সেটি দুঃখজনক। আমরা কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা নই, আমরা সংগঠন। এক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে আমরা নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সহায়তা চাই।
তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ভূমিকায় কি আপনারা সন্তুষ্ট?
নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে আমরা ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করে থাকি। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে তারা আইন ও বিধি-বিধান তৈরি করবেন। এক্ষেত্রে আমরা যে বিষয়ে আলোচনা করে থাকি সেটি হচ্ছে বিধি-বিধানগুলো যাতে সময়োপযোগী হয়। তাছাড়া একটি আইন হয়তো দীর্ঘমেয়াদের জন্য ভালো কিন্তু স্বল্পমেয়াদে সেটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে খাপ খাওয়ানোর জন্য কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়। আমরা এ বিষয়গুলো নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে নিয়মিতভাবেই আলোচনা করছি। সবার ভালোর জন্য আমরা নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে মিলে কাজ করতে চাই।
প্রায় দুই বছর ধরে পুঁজিবাজারে নতুন কোনো আইপিও আসছে না। এর আগে এত দীর্ঘ সময় ধরে আইপিও না আসার নজির নেই। এর কারণ কী?
কোনো কোম্পানি যখন আইপিওতে আসে তখন সেটি বেশ বড় একটি সিদ্ধান্ত। এ ধরনের বড় সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে আস্থার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার পরিবর্তে পুঁজিবাজার থেকে তহবিল নিলে কী সুবিধা পাওয়া যাবে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে তো ব্যাংকের সুদের হার অনেক বেশি। সে তুলনায় পুঁজিবাজার থেকে তহবিলে সংগ্রহ করাটাই তো লাভজনক হওয়ার কথা?
ব্যাংকের সুদের হার শুধু না, অন্যান্য খরচও বেশি। তাছাড়া ব্যাংক থেকে ছয় বছরের বেশি সময়ের জন্য ঋণও নেয়া যায় না। সে তুলনায় পুঁজিবাজার থেকে তহবিল সংগ্রহের ব্যয় কম মনে হতে পারে। কিন্তু পুঁজিবাজার থেকে তহবিল সংগ্রহের জন্য সময় অনেক বেশি লাগে। সময়েরও একটি ব্যয় আছে। অন্যদিকে ব্যাংক থেকে চাইলেই স্বল্প সময়ে ঋণ নিয়ে আমি বিনিয়োগ করতে পারছি। পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে নানা ধরনের ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয়। আমি তিন-চার বছর আগে পুঁজিবাজার থেকে রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করেছি। এজন্য আমাকে তিন রাত ধরে বিভিন্ন ধরনের ডকুমেন্ট স্বাক্ষর করতে হয়েছে। এতে কী লেখা ছিল সেটি না পড়েই কিন্তু স্বাক্ষর করেছি। বর্তমান যুগে এসে আমাদেরকে এক্ষেত্রে যুগোপযোগী পদ্ধতি চালু করতে হবে যাতে সহজে সবকিছু করা যায়।
এসব কারণেই কি বর্তমানে যে কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্ত রয়েছে তারা তাদের গ্রুপের অন্য কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনছেন না? আপনার নিজেরও তো অতালিকাভুক্ত কোম্পানি রয়েছে। সেগুলোকে কি পুঁজিবাজারে আনতে চান?
এখানে কিছু বিষয় রয়েছে। যেমন একজন ব্যক্তি একই সঙ্গে দুটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। কিন্তু আমাদের পেশাদার কর্মীদের সংখ্যা কি এতটাই সমৃদ্ধ যে আমরা চাইলেই একজন যোগ্য ও দক্ষ এমডি পাব? ফলে এক্ষেত্রে বিধি-বিধানে কিছুটা ছাড় দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। আমি মনে করি বিধি-বিধান সহজ করা হলে অনেকে এখানে আসতে চাইবেন।
আপনার প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের পাশাপাশি বিদেশের ভোক্তাদের কাছেও পণ্য রফতানি করছে। বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনীতি একটি চ্যালেঞ্জিং সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে স্থানীয় ও বিদেশী ক্রেতাদের মধ্যে কী ধরনের আচরণগত পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন?
দেশের বাজারে কোম্পানিগুলো চাপের মধ্যে রয়েছে সেটি তো বলেছি। রফতানির ক্ষেত্রে যদি বলি গত বছরের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হলেন তখন চীনের সঙ্গে ব্যবসায়িক বিরোধ হতে পারে এমন শঙ্কার কারণে হঠাৎ করে আমাদের কাছে কার্যাদেশ আসা বেড়ে গেল। আবার যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সমঝোতা হয়ে গেল তখন আবার আমাদের কার্যাদেশ কমে গেছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের শুল্ক নিয়ে সমঝোতা হওয়ার পর কিন্তু কার্যাদেশের পরিমাণ ২০২৪ সালের পর্যায়ে ফিরে গেছে। ফলে বৈশ্বিকভাবে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তন হবে এবং সেটিকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের চলতে হবে। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ভারতের সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার ফলে কিন্তু সেভেন সিস্টার্সে রফতানি কমে গেছে। এক্ষেত্রে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে যে নতুন সরকার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলোর মধ্যে একটি ব্যবধান বজায় রাখতে সক্ষম হবেন, যাতে করে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ওপর যতটা সম্ভব কম প্রভাব পড়ে। সেই সঙ্গে আমাদের নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে, যাতে করে একটি বাজার বন্ধ হয়ে গেলে অন্য আরেকটি বাজার ধরতে পারি।
বিএপিএলসির প্রেসিডেন্ট হিসেবে আপনার লক্ষ্যের বিষয়ে জানতে চাই?
সংগঠনটিকে অংশীজনদের সঙ্গে আরো বেশি সম্পৃক্ত করতে চাই। স্বতন্ত্র পরিচালকদের পুল আরো সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করছি। শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে আমাদের সংযোগ আরো বাড়াতে চাই। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো যেসব দেশে পণ্য রফতানি করছে, সেই দেশগুলোর দূতাবাস ও বাণিজ্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে আমাদের সংযোগ আরো বাড়াতে চাই, যাতে করে আমাদের সদস্য কোম্পানিগুলো তাদের সমস্যার বিষয়গুলো তুলে ধরতে পারে। সব মিলিয়ে বিএপিএলসিকে সামনের দিনগুলোতে একটি গতিশীল সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।