আর্থিক সক্ষমতায় এনআরবিসিকে তৃতীয় প্রজন্মের সমকক্ষ ব্যাংকে উন্নীত করতে চাই

মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া। দায়িত্ব পালন করছেন বেসরকারি খাতের এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে। দেশের ব্যাংক খাতে তার ক্যারিয়ার দীর্ঘ চার দশকের। এর মধ্যে লম্বা সময় কাটিয়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে। দেশের ব্যাংক খাত ও এনআরবিসি ব্যাংকের সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে বণিক বার্তা স্টুডিওতে সম্প্রতি কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইমামূল হাছান আদনান

দেশের ব্যাংক খাতকে এখন কেমন দেখছেন?

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালে একটা শাসকগোষ্ঠীর পতনের পর বিগত দিনের লুকিয়ে রাখা পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলো সামনে আসতে শুরু করে। এর ফলে ব্যাংক খাত কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। এক ভাগে রয়েছে কিছু ভালো মানের ব্যাংক, যারা খুব ভালো পারফর্ম করছে এবং যাদের কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানের কাছাকাছি। আরেক ভাগে রয়েছে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলো—যেখানে আমানতকারীদের টাকা ঋণ বা বিভিন্ন নামে পাচার করে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতের স্বাস্থ্যকে খুব একটা সুখকর বলা যায় না। এখনো স্পষ্ট সমস্যা আছে। আর এ সমস্যাগুলো এতটাই প্রকট ছিল যে, কিছু ব্যাংক আমানতকারীদের টাকাও ফেরত দিতে পারেনি। সে কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে এবং একাধিক ক্ষেত্রে একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক খাতের সামগ্রিক সুনাম তো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেই। এখন সেখান থেকে বেরিয়ে আসার একটা প্রক্রিয়া চলছে। কীভাবে ও কত দ্রুত এ অবস্থান থেকে উত্তরণ ঘটানো যায়, সেটাই এখন মূল বিষয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক যে ১৪টি বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক তার একটি। দায়িত্ব নেয়ার পর ব্যাংকটিকে কেমন পেলেন আপনি?

প্রথমেই একটা বিষয় পরিষ্কার করি। এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংককে আমি সেই অর্থে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর মতো বলব না, যাদের তারল্য সংকটের কারণে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে সমস্যা হচ্ছিল। আমি দায়িত্ব নেয়ার সময়ও এ ব্যাংকে কোনো তারল্য সংকট ছিল না। সময়ের সঙ্গে বরং তারল্য ব্যবস্থাপনা আরো সুদৃঢ় হয়েছে। এনআরবিসি ব্যাংকের মূল সমস্যা ছিল করপোরেট গভর্ন্যান্সে বড় ধরনের ঘাটতি। আমি এটা বলব না যে এরই মধ্যে সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। সমস্যা ছিল এবং এখনো আছে। সে ঘাটতির কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংক আগের পর্ষদ ভেঙে দিয়ে ব্যাংকটি পরিচালনার জন্য আমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছে। আমরা তা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছি।

দীর্ঘদিন ধরেই আপনাকে করপোরেট গভর্ন্যান্স নিয়ে কথা বলতে দেখেছি। বিআইবিএমে অধ্যাপনার ক্ষেত্রেও এ বিষয়গুলো নিয়ে সোচ্চার ছিলেন। সম্প্রতি করপোরেট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছেন। এ অভিজ্ঞতা ও স্বীকৃতি এনআরবিসি ব্যাংকে কীভাবে কাজে লাগাচ্ছেন?

অ্যাওয়ার্ড পাওয়া অবশ্যই আনন্দের। কিন্তু আমরা অ্যাওয়ার্ডকে টার্গেট করে কাজ করি না। আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বটা সুচারু রূপে পালনের জন্য কাজ করি। তা করতে গিয়ে যদি কোনো স্বীকৃতি আসে, সেটা অবশ্যই উৎসাহ ও বাড়তি মাত্রা যোগ করে। এটা সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আমি নিজেও এর ব্যতিক্রম নই। ব্যাংকের দিক থেকে বলতে গেলে, এটি একটি চলমান ব্যবসা। করপোরেট গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ রাখা যায় না। আমরা যা করেছি, চলমান কার্যক্রম চালু রেখেই সেখানে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বনের চেষ্টা করেছি। এজন্য প্রথমেই আমরা ঘাটতির জায়গাগুলো চিহ্নিত করেছি। কোথায়, কী পরিমাণ ঘাটতি আছে তা বের করার চেষ্টা করেছি। গভর্ন্যান্সের ক্ষেত্রে যেসব নীতিমালা আগে ছিল না, সেগুলো প্রবর্তন করেছি। যেগুলো দুর্বল ছিল, সেগুলোকে পুনর্গঠন করেছি।

এছাড়া কিছু বিষয় আছে, যেগুলো দৃষ্টির বাইরে থেকে যায়। পর্ষদের সব জায়গায় তো প্রবেশ করার সুযোগ থাকে না। তাই দায়িত্ব নেয়ার প্রথম মাসের মধ্যেই আমরা ফরেনসিক অডিটের সিদ্ধান্ত নিই। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘বিগ ফোর’ ফার্মের মধ্য থেকে একটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেয়া হয়। কেপিএমজি প্রায় পাঁচ মাস কাজ শেষে আমাদেরকে একটা খসড়া প্রতিবেদন দিয়েছে। সম্ভবত আগামী সপ্তাহ নাগাদ চূড়ান্ত প্রতিবেদনটা হাতে পাব।

যে খসড়া পেয়েছেন, সেটার আলোকে যদি জানতে চাই—ব্যাংকটির আর্থিক সক্ষমতা কেমন আছে?

গত বছরের মার্চে এনআরবিসি ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দিয়ে আমাদের দায়িত্ব দেয়া হয়। এর আগের তথা ২০২৪ সালের চূড়ান্ত হিসাব আমরা তখন পর্যন্ত পাইনি। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, তখন এ ব্যাংকের ৫ শতাংশের একটু বেশি শ্রেণীকৃত ঋণ ছিল। কোনো ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ যদি এ হার থাকে, তাহলে অবশ্যই সেটি ভালো ব্যাংকের পর্যায়ে পড়ে। কিন্তু এ তথ্যকে আমার কাছে পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। দায়িত্ব নেয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক ও অডিট ফার্মের মাধ্যমে চেষ্টা করি প্রকৃত চিত্র বের করার। তখন প্রায় ১২ শতাংশ পর্যন্ত শ্রেণীকৃত ঋণ পাওয়া গেছে। কিন্তু ফরেনসিক ও সম্পদ মান পর্যালোচনা (অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ বা একিউআর) শেষ হওয়ার পর দেখা যায়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ এ ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণ প্রায় ৩২ শতাংশে পৌঁছেছে। এরপর আমরা ডিসেম্বরের চূড়ান্ত হিসাবায়ন শেষ করি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিসহায়তা ব্যবহার করে কিছু ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। এতে ডিসেম্বর শেষে শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ ১৭ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে একে বড় সফলতাই বলা যায়। কিন্তু এ ১৭ শতাংশ ঋণের গুণগত মান কেমন? ট্রেসলেস ঋণ আছে কিনা?

যেসব ঋণ হদিসবিহীন বা ট্রেসলেস, সেগুলো আমরা পুনঃতফসিল করিনি। কারণ হদিসবিহীন ঋণ তফসিল করলে করপোরেট গভর্ন্যান্স থাকে না। এসব ঋণের বিরুদ্ধে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছি; অর্থঋণ আদালত ও ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের ব্যাংক খাতে গ্রস খেলাপি ঋণের হার যদি ৩৪ শতাংশ হয়, তাহলে এনআরবিসি ব্যাংক তার প্রায় অর্ধেকে রয়েছে। তবে চ্যালেঞ্জ হলো; যেসব ঋণ নীতিসহায়তার মাধ্যমে পুনঃতফসিল হয়েছে, সেগুলো যেন দুই বছরের মোরাটোরিয়াম শেষে আবার শ্রেণীকরণ করতে না হয়। আমরা নিয়মিত গ্রাহকদের ডেকে তাদের সমস্যাগুলো বুঝছি, বন্ধ থাকা কারখানাগুলো চালু করার উদ্যোগ নিচ্ছি। এটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

ঋণখেলাপিদের এর আগেও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পুনঃতফসিলসহ এ রকম বিভিন্ন নীতিসহায়তা দেয়া হয়েছে। এটাই কি সবশেষ সুযোগ নাকি এ রকম চলতেই থাকবে? ব্যবসায়ীরা এ সুযোগের সদ্ব্যবহার করবেন নাকি আবারো অনৈতিক চর্চা চালাতে থাকবেন?

আমি মনে করি, আপনি যখন ব্যবসা করবেন, তখন ঋণখেলাপি হওয়াটা একটি বাস্তবতা। ঋণখেলাপি হওয়ার পেছনে অনেকগুলো কারণ থাকে। এর মধ্যে কোন কারণে আপনি খেলাপি হচ্ছেন, সেটা বিবেচ্য বিষয়। ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংক সঠিক নিয়মকানুন মেনে, গ্রাহকের প্রাপ্যতা নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টেশন সম্পন্ন করে ঋণ প্রদান করলেও কিছু ঋণ শ্রেণীকৃত হতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে হারটা ১০০টির মধ্যে এক বা দুটির বেশি হওয়ার কথা নয়। এ ধরনের ঋণ যদি পরবর্তী সময়ে কোনো যৌক্তিক কারণে খেলাপি হয়, তাহলে ব্যাংকার এবং গ্রাহক একসঙ্গে বসে সঠিকভাবে ডায়াগনোসিস করলে সেই ঋণকে পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠন করা সম্ভব। প্রয়োজন হলে যৌক্তিক কারণে সুদ মওকুফ করেও সেটিকে আবার পারফর্মিং অ্যাসেটে নিয়ে আসা যায়। কিন্তু যেসব ঋণ ট্রেসবিহীন, বেনামিতে দেয়া অথবা ঋণের নামে ব্যাংক থেকে টাকা বের করে নেয়া বা পাচার করা হয়, সেগুলো প্রচলিত ব্যাংকিং প্রক্রিয়া ও বিদ্যমান আইনের মাধ্যমে আদায় করা বাস্তবিক অর্থেই খুব কঠিন।

এ সংকটের মধ্যেও এনআরবিসি ব্যাংক চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুনাফা করেছে। এটা কীভাবে সম্ভব হলো?

চতুর্থ প্রজন্মের অনেক ব্যাংক একীভূত পর্যায়ে চলে গেছে। এনআরবিসি ব্যাংকের নেটওয়ার্ক তুলনামূলকভাবে বড়; ১০৯টি শাখা ও ৪০০টির বেশি উপশাখা। ডিসেম্বর শেষে আমাদের আমানত দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকায়। এর মধ্যে ১৭ হাজার কোটি টাকাই বিনিয়োগ করা হয়েছে। মুনাফা বাড়ানোর জন্য আমরা আলাদা করে কাজ করিনি। শুধু অপচয়-অপব্যয়ের পথটা বন্ধ করেছি। তাতেই ব্যাংকটি তার ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিচালন মুনাফা (প্রায় ৪০০ কোটি টাকা) অর্জিত হয়েছে।

ব্যাংকাররা মূলত করপোরেটনির্ভর ঋণ দিয়েই নিজেদের বিপদগ্রস্ত করেছেন। সেক্ষেত্রে আগামীতে এনআরবিসি ব্যাংকের সম্প্রসারণ নীতি কী হবে?

এটা সত্য যে, করপোরেট ঋণের ঝুঁকি বেশি। তবে আমরা তা বন্ধ করছি না। এক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া আমরা সিএমএসএমই খাতে আমাদের ঋণের পরিমাণ বাড়িয়েছি। ডিসেম্বর শেষে আমাদের মোট পোর্টফোলিওর ২৯ শতাংশ ঋণ সিএমএসএমই খাতে বিতরণ করেছি। এটি ব্যাংক খাতের গড়ের তুলনায় দ্বিগুণ প্রায়। ২০২৬ সালের মধ্যে আমরা এটিকে ৩৫ শতাংশে নিয়ে যেতে চাই।

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ইতিহাসের প্রায় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এক্ষেত্রে অনেকটাই ভূমিকা রেখেছে উচ্চ সুদহার। মূল্যস্ফীতি কমানোর কথা বলে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার এখনো ১০ শতাংশ ধরে রেখেছে। খুব সহসাই তা কমবে বলেও মনে হচ্ছে না। এক্ষেত্রে আসলে কী করা উচিত?

ঋণ প্রবৃদ্ধি কমার পেছনে কেবল সুদহারকে দায়ী করা ঠিক নয়। নীতি সুদহার ১০ শতাংশ থাকলে ট্রেজারি বিলের রিটার্নও ১০ শতাংশের ওপরে। আমানত সংগ্রহ করতে হলে প্রিমিয়াম দিতে হয়। ফলে লেন্ডিং রেটও বাড়ে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা এখানে ভারসাম্য করার চেষ্টা করছে। সমস্যা হলো দেশে বর্তমানে বিনিয়োগের চাহিদাই কম। নতুন প্রকল্প, নতুন মেশিনারি আমদানি হচ্ছে না। প্রত্যাশা করি, একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পর স্থিতিশীল সরকার এলে ঋণ চাহিদা বাড়বে।

নির্বাচনের কথা বলছিলেন। ভালো নির্বাচন হবে বলে মনে করেন?

বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনের দিকে সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে। আমরা সবাই তাকিয়ে আছি। আশা করি বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন ভালো না হলে বাংলাদেশের জন্য বড় বিপদ নেমে আসবে।

নির্বাচনের পর স্থিতিশীলতা এলে ঋণ চাহিদা কেমন বাড়তে পারে? সেক্ষেত্রে আবার তারল্য সংকট তৈরি হতে পারে কিনা?

তারল্য ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্যজনিত কিছু বিষয় আছে বলে মনে হয় আমার। কিছু ব্যাংকে অতিরিক্ত তারল্য, আবার কয়েকটিতে সংকট রয়েছে। তবে চাহিদা বেড়ে গেলে বাজারে সরবরাহ দেয়ার মতো তারল্য সার্বিকভাবে আছে। আরেকটা দিক হলো, ঋণ চাহিদা যদি ট্রেজারি বিল-বন্ডের চেয়ে আকর্ষণীয় হয়, তখন সবাই এদিকেই ঝুঁকবে। আমার মনে হয় না এক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে।

ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য এনআরবিসি ব্যাংক কী ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে? বিশেষ করে প্রবাসী আয় সংগ্রহের ক্ষেত্রে আপনাদের উপশাখাগুলোকে কীভাবে কাজে লাগাচ্ছেন? কিংবা আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

২০২৬ সালের জন্য আমরা নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। গত বছর সার্বিক ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ হলেও এনআরবিসি ব্যাংক প্রায় ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এ বছর আমরা ১৫ শতাংশের বেশি ঋণ প্রবৃদ্ধি আশা করছি। গত বছর আমাদের রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রার একদম কাছাকাছি গিয়েছি। এ বছর সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা রফতানি ও ৭ হাজার কোটি টাকা আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি। প্রবাসী আয়ও গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ আশা করছি। সবকিছুর জন্য নতুন পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। দুই-তিন বছরের মধ্যে প্রবাসী আয় সংগ্রহে আমরা শীর্ষ পাঁচে যেতে চাই।

আগামী তিন বা পাঁচ বছর পর এনআরবিসি ব্যাংককে কোথায় দেখতে চান?

নেটওয়ার্কের তুলনায় এনআরবিসি ব্যাংকের পারফর্ম্যান্স অবশ্যই কম। আমানত, ঋণ কিংবা মুনাফা প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংক থেকে তৃতীয় প্রজন্মের ব্যাংক হতে চাই। আশা করি, এক্ষেত্রে খুব বেশিদিন সময় লাগবে না।

আরও