১১ দলীয় ঐক্যের গণসমাবেশে জামায়াত আমির

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি থেকে একচুলও সরব না

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরে আসতে চাপ দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘‌এ দাবি থেকে সরে আসতে আমাদের লোভ দেখানো হয়েছে, চাপও দেয়া হচ্ছে।

কিন্তু কোনো লোভ কিংবা চাপ আমাদের জনগণের গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি থেকে একচুলও সরাতে পারবে না।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের বিচার দাবিতে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিশাল গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নিজেই জনগণকে সংস্কারের পক্ষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব তরুণ প্রজন্মের উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘‌এ আন্দোলন দেশের মানুষের জীবন ও রক্তের ফসল। কোনো ব্যক্তি বা দল এককভাবে এ আন্দোলনের “‍মাস্টারমাইন্ড” দাবি করলে জনগণ তা গ্রহণ করবে না।’

তিনি বলেন, ‘‌এখনো অনেক জুলাই যোদ্ধা হাসপাতালে কিংবা বাড়িতে চিকিৎসাধীন থাকলেও সরকার তাদের প্রতি প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করছে না।’ শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন ও আহতদের দায়িত্ব রাষ্ট্রের বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারকে সতর্ক করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘‌জনগণের অধিকার হরণ করা হলে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরো তীব্র হবে।’ তিনি দাবি করেন, সরকার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গিয়ে ‘ফ্যাসিবাদের ফটোকপি’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, ‘‌সরকারকে বিভেদ সৃষ্টি না করার আহ্বান জানানো হলেও তারা সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি।’ তিনি অভিযোগ করেন, সরকার বিরোধী মতকে দমনে আগের শাসনের পথ অনুসরণ করছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘‌সংবিধান সংস্কার নিয়ে সরকারের উদ্যোগে অংশ না নেয়ার মাধ্যমে জামায়াতের আমির দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিকে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন।’

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘‌গণভোটের গণরায় উপেক্ষার কোনো সুযোগ নেই।’ বিরোধী মত দমনে শক্তি প্রয়োগের পথ থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‌অতীতের পুনরাবৃত্তি হলে তার পরিণতিও কঠিন হবে।’

সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চাঁনসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন নেতারা।

আরও