কম সময়ে ও স্বল্প ব্যয়ে উচ্চফলনশীল আউশ ধান চাষ করে লাভবান হচ্ছেন নাটোরের কৃষকরা। বিশেষ করে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) উদ্ভাবিত ব্রি ধান-৯৮ জাতের ভালো ফলন ও বাজারদর কৃষকদের আউশ চাষে আরো উৎসাহিত করছে। কৃষি বিভাগের মতে, প্রতি বিঘায় অন্যান্য মৌসুমের মতো ব্রি ধান-৯৮ জাত বিঘাপ্রতি ২০-২২ মণ ফলন হওয়ায় ধান চাষে কৃষকরা উৎসাহিত হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনেও বড় ভূমিকা রাখছেন। এতে আউশের আবাদ আরো বাড়ানো গেলে অসময়ে ধান-চালের সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বাজারও তুলনামূলক স্থিতিশীল রাখা সম্ভব। এছাড়া বোরো কৃষকের ঘরে ওঠার পর জেলার উঁচু এলাকার জমির বেশির ভাগ পতিত পড়ে থাকে। আমন মৌসুমের জন্য অপেক্ষা করেন তারা। তবে বোরোর শেষ এবং আমনের শুরু—এ সময়টাকে আউশের মৌসুম বলা হয়। যার কারণে কৃষকরা বাড়তি ফসল হিসেবে আউশ ধান চাষ করতে পারেন। তবে সরকারিভাবে আউশের আবাদ বাড়ানোর জন্য প্রতি বছর চাষীদের প্রণোদনা দেয় সরকার। এছাড়া আউশের খরচ কম হওয়ায় অন্যান্য ধান আবাদের তুলনায় খরচ ও পরিশ্রম কম লাগে। তাই আউশ আবাদে ঝুঁকছেন নাটোরের কৃষকরা। পতিত পড়ে থাকা জমিতে চারা রোপণের ১০০-১১০ দিনের মধ্যেই সোনালি ধান ঘরে তুলছেন কৃষকরা। এছাড়া এ বছর অনুকূল আবহাওয়া থাকায় ভালো ফলন ও দামেও খুশি তারা।
নাটোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর নাটোরে আউশ ধান চাষ হয়েছে ৮ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে। এতে ২৯ হাজার টন ধান উৎপাদনের আশা কৃষি বিভাগের। যার আনুমানিক বাজারদর প্রায় ১০০ কোটি টাকা।
হাজরা এলাকার কৃষক মোখসেদ আলী বলেন, ‘এই প্রথম ১৫ কাঠা জমিতে আউশের আবাদ করেছি। ধানের ফলনও ভালো হয়েছে।’ আরেক কৃষক সারদুল ইসলাম বলেন, ‘আউশ ধান চাষে অন্যান্য আবাদের মতো খরচ কম লাগে। এছাড়া বৃষ্টিনির্ভর হওয়ায় সেচের খরচও কম। তাই এ ধান চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। বিশেষ করে ব্রি ধান-৯৮ জাতের ধান চাষ করে বেশি লাভবান তারা। বোরোর মতো ফলন হওয়ায় কম খরচে বেশি লাভ করতে পারছেন তারা।’
নাটোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাবিবুর রহমান খান বলেন, ‘অসময়ের আউশ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে প্রতি বছরই প্রণোদনা দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। বিশেষ করে আউশের ফলন বাড়াতে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত ব্রি ধান-৯৮। ফলন ভালো হওয়ায় দিন দিন এ জাতের ধান চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন কৃষকরা। এছাড়া অসময়ে ধান ও চালের ঘাটতি পূরণে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে আউশ ধান।’