রাশিয়ায় মেকানিকের চাকরি দেয়ার কথা বলে নিয়ে যাওয়ার পর ফরিদপুরের নগরকান্দার রাজু মাতুব্বরকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। গত ৬ অক্টোবর ড্রোন হামলায় আহত হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
আজ সোমবার রাশিয়ায় অবস্থানরত আরেক বাংলাদেশীর মাধ্যমে রাজুর মৃত্যুর খবর পেয়েছে পরিবার। তবে এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত হতে পারেনি তারা। রাজু বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন, তা জানতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তার স্বজনরা।
রাজু মাতুব্বর নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা নান্নু মাতুব্বর পেশায় রিকশামিস্ত্রি। পরিবারের সদস্যরা জানান, চলতি বছরের মার্চে একই এলাকার রাশিয়াপ্রবাসী প্রিন্স মেকানিকের কাজ দেয়ার কথা বলে রাজুকে রাশিয়ায় নিয়ে যান। সেখানে আর্মি কোরের মেকানিক পদে চাকরি দেয়ার কথা বলে তাকে রুশ সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। পরে প্রশিক্ষণ শেষে তাকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবারের ভাষ্য, গত ৬ অক্টোবর ড্রোন হামলায় রাজু আহত হয়েছেন বলে তারা জানতে পারেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। গতকাল রাশিয়ায় অবস্থানরত আরেক বাংলাদেশীর মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, ড্রোন হামলায় রাজু মারা গেছেন। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য না পাওয়ায় তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হতে পারছেন না স্বজনরা।
রাজুর মৃত্যুর খবর শুনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার দরিদ্র পরিবারে। পরিবারের সদস্যরা জানান, ধারদেনা করে উন্নত জীবনের আশায় রাজুকে রাশিয়ায় পাঠিয়েছিলেন তারা। এখন ছেলের জীবিত থাকার খবর কিংবা মৃত্যুর সত্যতা—কোনোটিই নিশ্চিত হতে পারছেন না। রাজুকে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া প্রিন্সের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের। রাজু মারা গিয়ে থাকলে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন বাবা-মা ও স্বজনরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি চক্র কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন এলাকার মানুষকে রাশিয়ায় নিয়ে যাচ্ছে। পরে তাদের রুশ সেনাবাহিনীতে যুক্ত করে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে। এ চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন বলেন, রাজুর বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। পরিবারের কেউ যোগাযোগ করলে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে সহযোগিতাও করা হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে রাজুকে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া প্রিন্সের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।