নির্মাণ শেষেও চালু হয়নি নোয়াখালীর বামনী স্লুইস গেট

দুই বছর ধরে পড়ে আছে ২২ কোটি টাকার অবকাঠামো

কৃষিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা ও নোয়াখালীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের বামনী খালে নির্মাণ করা হয় স্লুইস গেট।

কৃষিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা ও নোয়াখালীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের বামনী খালে নির্মাণ করা হয় স্লুইস গেট। দুই বছর আগে নির্মাণ শেষ হলেও এখনো চালু করা যায়নি স্লুইস গেটটি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‌খালের ওপর ক্লোজার (বাঁধ) নির্মাণ না হওয়ায় কাজে আসছে না ১৯ ভেন্টের এ স্লুইস গেট। অবশ্য ক্লোজার নির্মাণ করে স্লুইস গেট চালু করতে নতুন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, খাল পুনঃখননের কারণে জোয়ারের লবণাক্ত পানি ঢুকছে দুই বেলা। ভাটায় ভাঙন দেখা দেয়ায় গত কয়েক বছরে কয়েকশ বাড়িঘর ও ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। ভাঙতে ভাঙতে নদী প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছে স্লুইস গেটটি। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে পার্শ্ববর্তী চরএলাহী ব্রিজটি। আবার বর্ষায় দেখা দিচ্ছে জলাবদ্ধতা।

স্থানীয় বাসিন্দা বাহার উদ্দিন জানান, ২০২৩ সালে স্লুইস গেটের নির্মাণকাজ শেষ হয়। সে সময় বামনী খালও খনন করা হয়। কথা ছিল পশ্চিম পাশে বামনী খালের ওপর ক্লোজার বা বাঁধ নির্মাণ করে স্লুইস গেটের দুই পাশের বাঁধ কেটে দেয়া হবে। তখন মেঘনার জোয়ারের পানি আর উজানে যাবে না। এতে বর্ষায় পানি স্লুইস গেট হয়ে মেঘনায় চলে যাবে। আর বামনী খালের পানি ব্যবহার হবে কৃষিকাজে। কিন্তু হয়েছে উল্টো। ক্লোজার নির্মাণ না করায় কাজে আসছে না স্লুইস গেটটি। উল্টো প্রতিদিন জোয়ারের লবণাক্ত পানি ঢুকছে বামনী খালে। এতে দুই বেলায় ভাঙন দেখা দিচ্ছে। কয়েক বছরে খালের দুই পাশে শতাধিক বাড়িঘর ভেঙেছে।

পাউবোর তথ্য বলছে, নোয়াখালী খাল, চাপরাশি খাল ও বামনী খাল পুনঃখনন, বামনী স্লুইস ও ক্লোজার নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে স্লুইস গেট নির্মাণ শুরু হয়। শেষ হয় ২০২৩ সালের প্রথম দিকে। প্রকল্পের সমাপ্তিও হয় ২০২৩ সালে। প্রকল্পের প্রায় সব কাজ শেষ হলেও নির্মাণ করা হয়নি ক্লোজার। ফলে ২২ কোটি টাকায় নির্মিত স্থাপনাটি কোনো কাজেই আসছে না।

এ ব্যাপারে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হালিম সালেহী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সম্প্রতি ভেঙে যাওয়া মুছাপুর স্লুইস গেট পুনর্নির্মাণ এবং বামনী স্লুইস গেট কার্যকর করতে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে স্থান দুটি পরিদর্শন করেছে। তবে ক্লোজার নির্মাণ শুরু করতে আরো অন্তত দুই বছর সময় লাগবে।’

আরও