প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলামের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। গতকাল ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠককালে তারা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং কৌশলগত অংশীদারত্ব নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। বিশেষ করে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে চলমান সামরিক প্রশিক্ষণ সহযোগিতা জোরদার, উচ্চ পর্যায়ের পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি-সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের দীর্ঘদিনের গৌরবোজ্জ্বল অবদান ও পেশাদারত্বের কথা তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের অনন্য ভূমিকা, ত্যাগ ও ধারাবাহিক সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা আরো সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এছাড়া গতকাল প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে ইতালির একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিরক্ষা প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। ইতালির ন্যাশনাল আর্মামেন্টস ডিরেক্টরেটের (এনএডি) পরিচালক মেজর জেনারেল লুইজি কাসালি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো উপস্থিত ছিলেন।
এ সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নেয়ার একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরো জোরদার করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতে একসঙ্গে কাজ করার নতুন সম্ভাবনা তৈরিতে এ ধরনের উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো হলে তা পারস্পরিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।—আইএসপিআর