পুলিশের ডিউটি শুরুর টাইম আছে, শেষ নেই

নাগরিকদের নিরাপত্তায় সবচেয়ে বড় অবদান রাখা পুলিশ সদস্যদের কাছে প্রতি উৎসবের মতো কোরবানির ঈদেও দায়িত্ব পালনই যেন তাদের পরম আনন্দ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য থেকে শুরু করে জরুরি সেবায় যারা নিয়োজিত, তাদের ত্যাগেই ফাঁকা শহর হয়ে ওঠে নিরাপদ।

‘ছুটিতে পুলিশ অতি সতর্ক হয়ে ডিউটি না করলে দেশে অস্থিতিশীলতা থাকবে। যেসব বাসা-বাড়ি আছে লুট হয়ে যাবে। সব থেকে খারাপ অবস্থা ফেইস করতে হয় পুলিশের। প্রতিদিন কম করে হলেও ১২ ঘণ্টা ডিউটি করতে হয়। কখনো এর থেকেও বেশি। আর ঈদের সময় তো দায়িত্ব আরো বেড়ে যায়। আজকেও ১২ ঘণ্টা ডিউটি করেছি। অনেকেই আছে যাদের গত ঈদে ছুটি হয়নি এবার কোরবানির ঈদে ছুটি হওয়ার কথা থাকলেও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ছুটি বাতিল করা হয়েছে।’

কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত শাহবাগ থানার একজন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই)।

নাগরিকদের নিরাপত্তায় সবচেয়ে বড় অবদান রাখা পুলিশ সদস্যদের কাছে প্রতি উৎসবের মতো কোরবানির ঈদেও দায়িত্ব পালনই যেন তাদের পরম আনন্দ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য থেকে শুরু করে জরুরি সেবায় যারা নিয়োজিত, তাদের ত্যাগেই ফাঁকা শহর হয়ে ওঠে নিরাপদ। যেখানে অনেক দিন পর সবাই পরিবারের সঙ্গে আনন্দ উদযাপনে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময় সাধারণ মানুষের সেবায় সময় কাটছে তাদের।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে কর্মব্যস্ত রাজধানী। যানজটের নগরী ঢাকা অনেকটাই ফাঁকা। কমেছে মানুষের কোলাহল আর যন্ত্রযানের হুইসেল। নেই চিরচেনা যানজট। তবে ফাঁকা রাজধানীতেও সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নিরবচ্ছিন্ন কাজ করছে ট্রাফিক পুলিশ।

কথা হয় বিজয় সরণির ট্রাফিক সিগন্যালে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন পুলিশের সঙ্গে। ট্রাফিক সার্জেন্ট মোয়াজ্জেম বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি রাষ্ট্রিয় দায়িত্ব পালন করছি। এটা আমার দায়িত্ব। আমাদের যদি খুব বেশি চাপ থাকে তাহলে কোনো ঈদেই ছুটি দেয়া হয় না। আমাদের নির্দেশনা আছে আমাদের সব সময় অ্যাক্টিভ থাকতে হবে। দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে আমরা কাজ করছি। মাঠে আছি।’

‘সবারই তো ইচ্ছে থাকে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার, ভালো মুহূর্ত একসঙ্গে পার করার। কিন্তু কজনই পারে?’ মনের চাপা কষ্ট নিয়ে বলছিলেন আরেক কনস্টেবল। দায়িত্ব পালনকালে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আগে মানুষ কথা শুনত, এখন শুনতে চায় না। অহরহ সিগন্যাল অমান্য করে। খারাপ ভাষায় কথা বলে। বাইক, সিএনজি এগুলো কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করে না। এখন গাড়িগুলো বেপরোয়া। কোনো কথা শুনতে চায় না।’

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে কাজ করছেন শিক্ষার্থীরাও। কথা হয় এমন একজন শিক্ষার্থী তুরজাউনের সঙ্গে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন। আগস্টের পর থেকে সড়কে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সঙ্গে কাজ করছেন তিনি।

পুলিশের অভিযানে সহায়তা করা অন্যতম দায়িত্ব জানিয়ে তুরজাউন বলেন,‘ট্রাফিকে কাজ করা খুব চ্যালেঞ্জিং। মানুষ আইন মানতে চায় না। তবে শুধরানোর জন্য আমরা কাউকে আটকালে সাধারণ মানুষের সাপোর্ট পাই। সরকারি অনেক গাড়ি আগে উল্টো পথে আসত। এটা যদি আগে ৭০ শতাংশ থাকত, সেটা নেমে ৫০ শতাংশে এসেছে।’

আরও